এখনই অস্ত্র সমর্পণ করবে না হামাস!
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 6, 2026 ইং
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস জানিয়েছে, তারা এখনই তাদের অস্ত্র সমর্পণ করবে না। তবে গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ যখন ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি)-এর হাতে যাবে, তখন রাস্তায় কেবল ফিলিস্তিনি পুলিশের হাতেই বৈধ অস্ত্র দেখা যাবে। হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান এক একান্ত সাক্ষাৎকারে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির (হুদনা) বিষয়ে এ কথা জানিয়েছেন।
হুসাম বদরান স্পষ্ট করেছেন, অস্ত্র সমর্পণ না করার অর্থ এই নয় যে গাজায় আগের মতো সশস্ত্র মহড়া চলবে। ফিলিস্তিনি পুলিশের আনুষ্ঠানিক অস্ত্র ছাড়া অন্য কোনো অস্ত্র প্রকাশ্যে দেখা যাবে না। তবে হামাসের সামরিক অস্ত্রাগারের চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, তা অন্যান্য ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় কাঠামোর আওতায় আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
চলতি সপ্তাহান্তেই মিসরের কায়রোতে আটটি প্রধান ফিলিস্তিনি দলের মধ্যে এই সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সম্প্রতি সামরিক কমান্ডার ইজ আল-দিন আল-হাদ্দাদ এবং মোহাম্মদ ওদেহকে হত্যার প্রতিবাদে এবং আলোচনার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতে হামাস সাময়িকভাবে তাদের অংশগ্রহণ স্থগিত করেছিল। কায়রোর এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি রক্ষা করা।
চুক্তির ক্ষেত্রে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারই এখন প্রধান বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বদরান অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল প্রথম ধাপের চুক্তির ৩০ শতাংশও বাস্তবায়ন করেনি। শর্তানুযায়ী প্রতিদিন ৬০০টির বদলে মাত্র ১৫০ থেকে ২৫০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করছে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এখনো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে আছে।
এমতাবস্থায় ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর গাজা বিষয়ক উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি নিকোলে ম্লাদেনভ অচলাবস্থা নিরসনে ১৫ দফার একটি ‘রোডম্যাপ’ প্রস্তাব করেছেন। ম্লাদেনভের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র হস্তান্তর করতে বাধ্য করা হবে না। তবে পর্যায়ক্রমে এনসিএজি-এর কাছে তাদের অস্ত্র জমা দিতে হবে, যা ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং বাফার জোনে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্টেবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) মোতায়েনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ম্লাদেনভ সতর্ক করে জানিয়েছেন, অস্ত্র সমর্পণ না করলে গাজার পুনর্গঠনে কোনো অর্থায়ন আসবে না।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক উইসাম আফিফার মতে, এই ১৫ দফার রূপরেখাটি মূলত ইসরায়েলের সময়ক্ষেপণের একটি কৌশল। তিনি মনে করেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এই আলোচনাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। আর এর আড়ালে গাজায় ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণের পরিধি ৬০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ বা তারও বেশি করা হচ্ছে।
এদিকে হামাস গাজার শাসন ও নিরাপত্তার সব দায়িত্ব কায়রোভিত্তিক ন্যাশনাল কমিটির (এনসিএজি) কাছে হস্তান্তরের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। কিন্তু কমিটি নিজেই এখন নানা পরিচালনাগত প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। এনসিএজি-এর একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর পেছনে বা ইসরায়েলি মদদপুষ্ট সশস্ত্র মিলিশিয়াদের সঙ্গে তারা কোনোভাবেই কাজ করবে না। এমনকি বাফার জোনে আইএসএফ মোতায়েন না হওয়া পর্যন্ত তারা গাজায় প্রবেশ করতেও রাজি নয়।
রাজনৈতিক এই অচলাবস্থার কারণেই গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে এবং বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও মানবিক সংকট বেড়েই চলেছে। সূত্র: আলজাজিরা
আপনার মতামত লিখুন :