• ঢাকা
  • | |
Alifhostbd

ইরানের সাথে ব্যর্থতা ঢাকতেই কিউবায় অশান্তি করতে চান ট্রাম্প!


FavIcon
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 22, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

ইরানে শাসন পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার কিউবাকে নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন। মূলত ইরানের সঙ্গে ব্যর্থতা ঢাকতে এবং পররাষ্ট্রনীতিতে একটি বড় বিজয় পেতেই তিনি কিউবায় শাসন পরিবর্তনের ছক কষছেন। তবে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী নতুন করে কোনো রণাঙ্গনে যুক্ত হলে ওয়াশিংটনকে চরম রাজনৈতিক ও সামরিক ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা।

কয়েক সপ্তাহ ধরেই দরিদ্র এই দ্বীপরাষ্ট্রটিকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, কিউবার সঙ্গে তিনি ‘যা খুশি’ তা-ই করতে পারেন এবং ‘দেশটি দখল করার সম্মান’ পেতে পারেন। গত বুধবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কিউবা একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র, যাদের কোনো তেল বা টাকা নেই এবং দেশটি ভেঙে পড়ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার জনগণকে ‘স্বাধীনতা ও সাহায্য’ দিতে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে হাভানার ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। ১৯৯৬ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর শাসনামলে দুটি বেসামরিক মার্কিন বিমান ভূপাতিত হয়ে তিন মার্কিন নাগরিকসহ চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর (তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী) বিরুদ্ধে সম্প্রতি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের গবেষক লি শ্লেঙ্কারের মতে, ফ্লোরিডায় দায়ের করা বিচার বিভাগের এই অভিযোগপত্র হোয়াইট হাউসের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। গত জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষেত্রে যেমন অজুহাত দাঁড় করানো হয়েছিল, কিউবার ক্ষেত্রেও এই আইনি পদক্ষেপটি সামরিক বা বিশেষ বাহিনীর অভিযানের অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

অবরোধের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি শক্তি প্রয়োগের ভয় দেখিয়ে শত্রুকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার এই মার্কিন কৌশল ভেনিজুয়েলায় কাজ করলেও ইরানে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সেই ব্যর্থতা ঘোচাতেই এবার কিউবাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেনিজুয়েলা ও ইরানে সামরিক পদক্ষেপের আগে যেমন মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা বিমানের তৎপরতা বেড়েছিল, সম্প্রতি কিউবা উপকূলেও তেমন তৎপরতা ব্যাপক হারে বেড়েছে।

তবে নতুন করে কোনো সামরিক অভিযানে জড়ানোর মতো রাজনৈতিক পুঁজি বর্তমানে ট্রাম্পের হাতে নেই। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা কিংবা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার মতো বিষয়গুলোতে তিনি এখন পর্যন্ত ব্যর্থ। এছাড়া ইরান যুদ্ধের কারণে তার জনপ্রিয়তা কমেছে এবং মার্কিন জনগণও নতুন করে কোনো যুদ্ধ চাইছে না। তারপরও হারানো মার্কিন মর্যাদা পুনরুদ্ধারের দাবি প্রমাণ করতে ট্রাম্প একটি বড় বিজয় খুঁজছেন। তিনি মনে করেন, কিউবাকে শত্রু থেকে অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত করা গেলে সমগ্র পশ্চিম গোলার্ধ পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। সূত্র: সিএনএন

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ