মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে ইরানকে আমন্ত্রণ!
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 24, 2026 ইং
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের গড়া মক্কা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
ইরানি পার্লামেন্টের খানে মিল্লাতের প্রধান মেহদি রহিমি শনিবার দেশটির সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেন।
রহিমি বলেন, ‘ইরান মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা চুক্তিটিতে স্বাক্ষরকারী তিন দেশ সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এখনও ইরানকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
রহিমির দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে আসায় তিনি এটিকে দেশটির জন্য ‘বিজয়’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মক্কা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এ ব্যবস্থাকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, চুক্তিটি ইরান বা কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়।
চুক্তিটি ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে বলে শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে তুরস্ক। এরই মধ্যে মিসরকে সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে প্রকাশ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, চুক্তি নিয়ে ইরান এখন পর্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গত ১০ আগস্ট বলেছিলেন, এ জোট গঠনে তেহরানের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাঁর মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে—এই উদ্যোগে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।
এদিকে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সোমবার ইরান সফর করবেন। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তাঁর এ সফর বলে জানিয়েছেন বাঘাই।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় ইসলামাবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সূত্র: ফার্স্টপোস্ট
আপনার মতামত লিখুন :