হরমুজকে ফের ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ দাবি করে মানচিত্র প্রকাশ করলেন ট্রাম্প
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 23, 2026 ইং
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করে এটিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইরানও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান না বদলালে প্রণালিটি বন্ধই থাকবে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ে দুই দেশের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, গত ১৮ আগস্টও একই ছবি শেয়ার করেছিলেন ট্রাম্প। এর আগে ১৪ আগস্ট লং আইল্যান্ডের একটি পুলিশ একাডেমিতে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।’
ট্রাম্পের ওই দাবির জবাবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছিলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে আমেরিকার অক্ষমতা আর প্রণালিটির মালিকানা দাবি করার মধ্যকার ব্যবধান ওয়াশিংটন থেকে হরমুজ প্রণালির ৭ হাজার মাইল দূরত্বের চেয়েও বেশি’। তিনি আরও বলেন, ‘পারস্য উপসাগরে আমেরিকাবিহীন নতুন ব্যবস্থায় স্বাগতম।’
ট্রাম্পের সর্বশেষ পোস্ট এমন সময়ে এলো, যখন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। এতে দুই দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
ইরান নতুন এসব নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছে। তেহরানের আশঙ্কা, এতে দেশটির অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়বে এবং বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপরও প্রভাব পড়বে। এসব দেশের মধ্যে চীনও রয়েছে। মূলত ইরানের তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা দেশ চীনই।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ ঘোষণা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে চীনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নতুন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেছেন, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দেশের বাইরে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এক্সে দেয়া এক পোস্টে বাঘাই বলেন, ‘এ ধরনের দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার আন্তর্জাতিক আইনে কোনও ভিত্তিই নেই।’
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাইও প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক আগ্রাসনে সমর্থন না দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রেজাই বলেন, ‘আমরা সব প্রতিবেশী দেশকে বলছি, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ দেবেন না। অন্যথায় আমরা তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করব।’
মূলত দুই দেশের চলমান সংঘাতে হরমুজ প্রণালি এখন সবচেয়ে বড় উত্তেজনাকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ইরান বলছে, প্রণালিটি বন্ধ রয়েছে এবং অনুমতি ছাড়া তেলবাহী জাহাজ চলাচল করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অল্প কয়েকটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি দিয়ে চলাচল করতে পারলেও বড় তেলবাহী জাহাজ ও এলএনজি পরিবহনকারী ট্যাংকারের উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে।
অবশ্য বাগদাদের অনুরোধের পর কিছু ইরাকি তেলবাহী জাহাজকে প্রণালিটি দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান।
আপনার মতামত লিখুন :