• ঢাকা
  • | |
Alifhostbd

অচিরেই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করা হবে: ট্রাম্প


FavIcon
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 15, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার মধ্যেই, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিউইয়র্কে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন তিনি। বৈশ্বিক তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সার সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ চলছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। 

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও, বর্তমানে এর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয় হয়ে উঠেছে।

গত জুনে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছিল। এতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করার প্রতিশ্রুতি ছিল ইরানের। তবে পরে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে এবং মাসের শেষ নাগাদ আবারও সংঘাত শুরু হয়।

এদিকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তিকর আলোচনা চলছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের তীব্রতা কিছুটা কমলেও কোনো পক্ষই সন্তুষ্ট হয়নি এবং যুদ্ধেরও স্থায়ী সমাপ্তি ঘটেনি।

ইরান দাবি করছে, হরমুজ প্রণালির একটি অংশ তাদের জলসীমার মধ্যে পড়ায় এর নিয়ন্ত্রণের অধিকার তাদের রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও প্রণালিতে নিজস্ব অবরোধ আরোপ করেছে। চলতি সপ্তাহেই ইরানের বন্দরের দিকে যাওয়ার অভিযোগে একটি কার্গো জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

শুক্রবারের বক্তব্যে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে ‘অভেদ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, হরমুজ প্রণালির ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নয়, এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল পুরো বিশ্বের জন্যই উপকারী।

ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, কোনো পোস্ট, বিমানবাহী রণতরী, আদেশ বা নির্বাচনি বক্তব্যের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়। হুমকি বা শক্তি প্রদর্শনে ইরান ভয় পায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে টোল আদায়ের কথাও তুলেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গত মাসে ট্রাম্প বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র এবং জলপথ দিয়ে পরিবাহিত পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ ফি নেওয়া হতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের টোল আরোপ বেআইনি হবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল মূলত সুরক্ষিত।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড সম্প্রসারণের ইঙ্গিত ট্রাম্পের জন্য নতুন নয়। ২০২৫ সালে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর, অভিষেক ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ক্রমবর্ধমান জাতি’ হিসেবে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। এরপর কানাডা ও ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ওপর সার্বভৌমত্ব ছাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন তিনি।

শুক্রবারই ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন করবেন তিনি। এরই মধ্যে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে তেহরান।

অন্যদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট মার্কিন গণমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের অর্থনীতিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ