অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির মাধ্যমে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে: আনিসুল ইসলাম
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 15, 2026 ইং
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, আমরা ভুল করেছি। আমরা অর্থনৈতিক উন্নতির দিকে গিয়েছি, কিন্তু মানবাধিকারে উন্নতি করতে পারিনি।
আর ভুল নয়, আমাদের বৈষম্য দূর করতে হবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে সব প্রতিহিংসা ও জিঘাংসা দূর করে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির মাধ্যমে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) গুলশানের ইমানুয়েল কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।
ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আরও বলেন, স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষে এই বিতর্ক আমরা চাই না। ’৭১ ছাড়া বাংলাদেশ চলবে না।
যে সংসদে আপনারা বসেছেন, কথা বলছেন-এটা বাংলাদেশের সংসদ। সরকারকে বলতে চাই, আপনারা সময় বেশি পাবেন না যদি জনগণ যা চায় তা না করেন। আপনারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফসল হিসেবে সংসদে এসেছেন, সেই বৈষম্য আপনাদের দূর করতে হবে।
স্মরণসভায় অভিযোগ করে আনিসুল ইসলাম বলেন, জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন করতে দেওয়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার একটি দলকে বিরোধী দল বানাতে চেয়েছিল। সুষ্ঠু পরিবেশ হলে আমরাই (জাতীয় পার্টি) বিরোধী দল হতাম।
তিনি বলেন, দেড় বছরের দুঃশাসনের ফল আমরা ভোগ করছি। বিএনপি সরকার বড় বাজেট দিয়েছে, এই বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আইএমএফ-ও এই কথা বলছে। আমরা সংস্কার চাই, এটি সবার চাওয়া। সংস্কার যদি আমরা করতে না পারি, তবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও এনডিএফ মুখপাত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, নির্বাচনটা হয়ে গেল, সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনটা হলে ভালো হতো। আশা করব আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ থাকবে। জাতীয় পার্টি সব স
ময় অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের শত্রু না, আমরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। আমাদের উচিত সবাই মিলে দেশের কল্যাণে কাজ করা।
তিনি বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির খবর পত্রিকায় প্রকাশ হচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বলব, আপনি সব দুর্নীতিবাজদের বিচার করুন। দুর্নীতির বিচার যদি কঠিন হয়, তাহলে দেশ থেকে দুর্নীতি কমে যাবে।
বিদ্যুৎ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে এ বি এম রুহুল আমিন বলেন, দেশে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিচ্ছে, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের পাশাপাশি বিদ্যুতের মূল্য কমাতে হবে। এই সেক্টরে সরকারকে আরও নজর দিতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব সময় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতির চর্চার কথা বলছেন। এজন্য জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে আমি তাকে সাধুবাদ জানাই। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সন্তান। জিয়াউর রহমানও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। আমরা আশা করব তারেক রহমানের নেতৃত্বেও বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি বিকশিত হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলাম, তখন ’৮৮ সালে ভয়াবহ বন্যা আমরা মোকাবিলা করেছিলাম। আমাদের প্রয়াত নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বন্যাকবলিত এলাকায় ছুটে গিয়েছিলেন। আমরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বন্যা মোকাবিলা করেছিলাম।’
এ সময় এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা বৃদ্ধি ও বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাহিদুর রহমান টেপা, লেবার ফেডারেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, জাতীয় ইসলামী মহাজোট চেয়ারম্যান আবু নাসের মো. ওহেদ ফারুক, সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ, বাংলাদেশ স্বাধীন পার্টির চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিজু, জাতীয় মহিলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক নাজমা আক্তার, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোবারক হোসেন আজাদ, জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক ফখরুল আহসান শাহজাদা, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, জাতীয় মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক শরফুদ্দিন আহমেদ শিপু, জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মাহমুদ কামাল, পটুয়াখালী জেলা সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মিরাজুল হক মিন্টু, বরিশাল মহানগর সদস্য সচিব একেএম মোস্তফা প্রমুখ।
স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী নাসরিন জাহান রতনা, প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ, চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত মাসরুর মাওলা, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, অধ্যাপক নূরুল ইসলাম মিলন, সরদার শাহজাহান, মো. বেলাল হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক, আমানত হোসেন আমানত, জাহাঙ্গীর আহমেদ, নাজনীন সুলতানা, ইয়াহইয়া চৌধুরী, বাংলাদেশ সার্বজনীন দল চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল নূর মোহাম্মদ মনির, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ সভাপতি এম এ জলিল, ইউডিপি চেয়ারম্যান নারায়ণ কুমার দাস, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান সেকান্দার আলী সেরনিয়াবাদ, আনোয়ার হোসেন তোতা, ডা. সেলিমা খান, মিজানুর রহমান দুলাল, বাংলাদেশ-এর সহ-সভাপতি মো. ইউসুফ, বাংলাদেশ মাইনরিটি ইউনাইটেড ফ্রন্টের চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার দাশগুপ্ত, নোটারি পাবলিক সংগ্রহ বাংলাদেশ সভাপতি শেখ আবদুল হক চাষী, জাতীয় পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)-এর বিভিন্ন স্তরের নেতারা।
সভা শেষে জাতীয় যুবসংহতির উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। এর আগে ১৪ জুলাই প্রথম প্রহরে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত এরশাদের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের পক্ষে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল আহসান শাহজাদা ও বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
আপনার মতামত লিখুন :