• ঢাকা
  • | |
Alifhostbd

তৃণমূল কংগ্রেস নিয়ে কঠিন পরীক্ষায় মমতা


FavIcon
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 2, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

তৃণমূল কংগ্রেস এর হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ঝড় তোলা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এখন দলটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। গত ৪ মে প্রকাশিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৮টি আসন পেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে চলে আসে, বিপরীতে তৃণমূলের আসন মাত্র ৮০টিতে নেমে দাঁড়ায়। এই ভরাডুবির পর থেকেই দলে তীব্র অস্থিরতা, বিদ্রোহ, দলীয় পদত্যাগ এবং বিজেপির উত্থান শুরু হয়েছে। ৩ দশকে পা দেওয়া এই দলকে ৭১ বছর বয়সে এসে ধরে রাখা মমতার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে বিধায়কদের ওপর মমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি তাঁর সভাপতিত্বে ডাকা একটি বৈঠকে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬০ জনই অনুপস্থিত ছিলেন, যদিও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন যে তারা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনঅসন্তোষের কারণে মমতা তাঁর বিধায়কদের ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্যেই সোমবার সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নামের দুই বিধায়ককে দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, যা পরিস্থিতি কতটা কঠিন তা স্পষ্ট করে দেয়।

তৃণমূলের এই ভাঙনের পেছনে দলের ভেতরের আদর্শগত সংকটকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ভোট টানার জন্য অভিনয় ও ক্রীড়াজগতের যেসব তারকাদের প্রার্থী করা হয়েছিল, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতেই তাদের অনেকে দল ছাড়ছেন বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতে, তৃণমূলের নিজস্ব শক্তিশালী আদর্শিক শিকড় না থাকায় দলটির নেতারা সহজেই ভেসে যাচ্ছেন। এছাড়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থানের পর নির্বাচনী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আই-প্যাককে অতিরিক্ত ক্ষমতাবান করায় দলের পুরোনো ও তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ইতিমধ্যে দলের বিভিন্ন স্তরে দলত্যাগের হিড়িক পড়েছে। সাতটি পৌরসভা থেকে শতাধিক কাউন্সিলর এবং মনোজ তিওয়ারি, রাজ চক্রবর্তীর মতো নেতারা দল ছেড়েছেন। বারাসতের সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন, যেখানে আরও ছয়জন তৃণমূল বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, শতাব্দী রায়ের মতো তারকা সংসদ সদস্যদের তেমন দেখা যাচ্ছে না এবং বহরমপুরের সংসদ সদস্য ইউসুফ পাঠানও পদত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। কিছু নেতা আবার কংগ্রেসের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। তবে ২০২১ সালের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে বিজেপি দলত্যাগীদের নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তৃণমূলের ভেতরে মমতা ও অভিষেকের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী বিধায়কদের গোপন বৈঠকের খবরও প্রকাশ্যে এসেছে। এই ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক ফেসবুক লাইভে অভিযোগ করেন যে, কিছু নেতা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় লড়ছেন এবং পুলিশি চাপ দিয়ে বিধায়কদের নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তৃণমূল কোনো নেতাভিত্তিক নয়, বরং কর্মীভিত্তিক দল; কর্মীরা পাশে থাকলে তিনি আবার দল গড়ে তুলবেন। অন্যদিকে কুণাল ঘোষ বিধায়কদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, তারা নিজেদের শক্তিতে নয়, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেই জিতেছেন।

ইন্ডিয়া টুডে-র মতে, কোনো রাজনৈতিক দলের মৃত্যুপরোয়ানা এত সহজে লেখা যায় না, কারণ দলগুলো প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকার ক্ষমতা রাখে। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর তৈরি হওয়া এই তীব্র জনঅসন্তোষের মুখে ২০২৯ সালের লোকসভা এবং ২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির শক্ত মোকাবিলা করে জোড়া ঘাসফুল প্রতীককে টিকিয়ে রাখা মমতার জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। যেহেতু তৃণমূলের পরিচয় প্রায় পুরোপুরি মমতাকেন্দ্রিক, তাই দলত্যাগ ঠেকিয়ে সংগঠন পুনর্গঠন করার ওপরই এখন দলটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ