• ঢাকা
  • | |
Alifhostbd

সকালের শুরুতে যে অভ্যাসগুলো জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে


FavIcon
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 1, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

সকালে ঘুম থেকে ওঠা অনেকের কাছেই যেন এক যুদ্ধ। অ্যালার্ম বন্ধ করে আরও পাঁচ মিনিট ঘুম, তাড়াহুড়ো করে তৈরি হওয়া, হাতে এক কাপ কফি নিয়ে দিনের শুরু এটাই যেন বাস্তবতা। ফলে দিনের শুরুতেই ক্লান্তি, অস্থিরতা আর কাজের চাপ ভর করে। কিন্তু মজার বিষয় হলো, সকালকে একটু ভিন্নভাবে শুরু করলে পুরো দিনের অনুভূতিই বদলে যেতে পারে। আপনি জন্মগতভাবে ‘মর্নিং পারসন’ না হলেও কিছু ছোট অভ্যাস গড়ে তুলে সকালকে আরও সতেজ, উৎপাদনশীল এবং আনন্দময় করে তোলা সম্ভব। এবার জেনে নিন এমনই ১০টি কার্যকর উপায়। এগুলো হলো: 

১. অ্যালার্মের শব্দ বদলান
কর্কশ অ্যালার্মের শব্দে হঠাৎ ঘুম ভাঙলে বিরক্তি ও ক্লান্তি আরও বেড়ে যেতে পারে। বরং পছন্দের কোনো মৃদু সুর, প্রকৃতির শব্দ বা শান্ত সংগীতকে অ্যালার্ম হিসেবে ব্যবহার করুন। এতে ঘুম ভাঙা হবে অনেক স্বাভাবিকভাবে এবং দিনের শুরুটাও হবে আরামদায়ক।

২. সকালের আলোকে স্বাগত জানান
ঘুম থেকে উঠেই পর্দা সরিয়ে জানালা খুলে দিন। সকালের সূর্যের আলো শরীরের জৈবঘড়িকে জানিয়ে দেয় এখন জেগে ওঠার সময়। এতে শরীর দ্রুত সজাগ হয় এবং রাতে সময়মতো ঘুমাতেও সুবিধা হয়। যদি বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকে, কয়েক মিনিট খোলা বাতাসে হাঁটুন। আর মেঘলা দিনে ঘরের পর্যাপ্ত আলো জ্বালিয়ে রাখুন।

৩. মুখে পানি দিন
ঠান্ডা বা হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলে ঘুমঘুম ভাব অনেকটাই কেটে যায়। এতে চোখ-মুখ সতেজ লাগে এবং শরীরও দ্রুত জেগে ওঠে। যাদের ত্বক শুষ্ক বা সংবেদনশীল, তারা চাইলে শুধু পানি দিয়েই মুখ ধুতে পারেন। প্রতিদিন ফেসওয়াশ ব্যবহার করতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

৪. পুষ্টিকর নাশতায় দিন শুরু করুন
সকালের নাশতা শুধু পেট ভরায় না, সারা দিনের শক্তির জোগানও দেয়। তাই নাশতায় রাখুন, ডিম, দই, ওটস বা পূর্ণ শস্য, ফল, এবং সবজি।  সঙ্গে অবশ্যই এক গ্লাস পানি পান করুন। চা বা কফি খেতে চাইলে ধীরে ধীরে উপভোগ করুন, তাড়াহুড়ো করে নয়।

৫. শরীরকে একটু নড়াচড়া করান
সকালে কয়েক মিনিট স্ট্রেচিং করলে শরীরের জড়তা কমে যায়। সময় থাকলে হাঁটা, হালকা দৌড়, সাইকেল চালানো বা যোগব্যায়াম করতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে ব্যায়াম করলে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং কর্মক্ষমতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি সারাদিন শরীরও থাকে অনেক বেশি চাঙা।

৬. ছোটখাটো কাজগুলো আগে সেরে ফেলুন
ঘুম থেকে উঠেই কয়েকটি সহজ কাজ শেষ করলে মনে হয় দিনটা যেন থিক ভাবেই শুরু হচ্ছে।  যেমন—

বিছানা গুছিয়ে রাখা
নাশতার প্লেট ধুয়ে ফেলা
ডিশওয়াশার খালি করা
ওয়াশিং মেশিনে কাপড় দিয়ে রাখা
এসব ছোট কাজ পরবর্তী সময়ের চাপও কমিয়ে দেয়।

৭. ধ্যান করুন কিংবা ডায়েরি লিখুন
সকালের কয়েক মিনিটের ধ্যান মনকে শান্ত করে এবং দিনের জন্য ইতিবাচক মানসিক প্রস্তুতি তৈরি করে। ধ্যান ভালো না লাগলে ডায়েরি লিখতে পারেন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় নিয়ে নিজের অনুভূতি, চিন্তা কিংবা দিনের লক্ষ্য লিখে ফেলুন। এতে মন অনেকটাই গুছিয়ে আসে এবং উদ্বেগও কমে।

৮. দিনের কাজের তালিকা তৈরি করুন
দিনজুড়ে কী কী করতে হবে, তা সকালে লিখে রাখুন। এতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। কোন কাজ আগে করবেন তা নির্ধারণ করা সহজ হয়। আর  অতিরিক্ত চাপও কম অনুভূত হয়। সব কাজ আজই শেষ করতে হবে এমন ভাবনা না রেখে কিছু কাজ আগামী দিনের জন্যও রেখে দিন।

৯. নিজের জন্য কিছু সময় রাখুন
সকালের পুরো সময় শুধু দায়িত্ব আর কাজ দিয়ে ভরে ফেলবেন না। এমন কিছু করুন, যা আপনাকে আনন্দ দেয়।
হতে পারে—

প্রিয় বইয়ের কয়েক পৃষ্ঠা পড়া,
গান শোনা,
ইউটিউবে পছন্দের ভিডিও দেখা,
ছবি আঁকা,
কিংবা কোনো সৃজনশীল কাজে সময় দেয়া।
এতে সকালকে আর বিরক্তিকর মনে হবে না; বরং প্রতিদিন নতুন করে শুরু করার আগ্রহ তৈরি হবে।

১০. প্রিয় মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন
দিনের শেষে ক্লান্তির কারণে অনেক সময় পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলা হয় না। তাই সকালে কয়েক মিনিট সময় বের করে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেন, ভিডিও কলে খোঁজ নিতে পারেন বা একসঙ্গে এক কাপ চা পান করতে পারেন। এ ধরনের ছোট ছোট মুহূর্ত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে এবং সারাদিনের মন ভালো রাখতেও সাহায্য করে।

সকালকে বদলে দিতে বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। একসঙ্গে সব অভ্যাস গড়ে তোলারও দরকার নেই। প্রতিদিন একটি বা দুটি ছোট পরিবর্তন দিয়ে শুরু করুন। ধীরে ধীরে সেটাই আপনার নতুন রুটিনে পরিণত হবে।
মনে রাখবেন, সুন্দর সকাল কেবল ভোরে ঘুম থেকে ওঠার ওপর নির্ভর করে না; বরং আগের রাতের ভালো ঘুম, পরিকল্পনা এবং নিজের জন্য একটু সময় রাখার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে একটি সফল ও প্রাণবন্ত দিনের শুরু। সূত্র: হেলথলাইন 

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ