• ঢাকা
  • | |
Alifhostbd

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে লেবানন থেকে সেনা সরাতে পারে ইসরায়েল


FavIcon
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 23, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনা উপস্থিতি নিয়ে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে বৈঠকের প্রস্তুতির মধ্যেই খবর এসেছে, দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা থেকে ইসরায়েলকে সেনা সরিয়ে নিতে ওয়াশিংটন চাপ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তেল আবিব। এ নিয়ে দুই মিত্র দেশের মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিতও মিলছে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা থেকে ধীরে ধীরে সেনা প্রত্যাহার করতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইসরায়েল। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান সোমবার (২২ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাব্য প্রাথমিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফা বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এটি লেবাননের সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব হস্তান্তরের একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কানের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এ আলোচনা হবে। এতে ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি ইসরায়েলের তিনজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অংশ নেবেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে তাদের সেনা মোতায়েনের অবস্থান ও কাঠামোয় কিছু পরিবর্তন এনেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে কান জানায়, তথাকথিত নিরাপত্তা অঞ্চলের কিছু এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে ধাপে ধাপে সরে যেতে যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিতে পারে, এমন সম্ভাবনাকেও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এর ফলে আস্থা তৈরির পদক্ষেপ হিসেবে লেবাননের সেনাবাহিনী আবার সেখানে মোতায়েন করা যাবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন একটি ব্যবস্থার অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইরান ও কাতার অংশ নেবে, তবে ইসরায়েল থাকবে না। কানের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ইসরায়েলি সূত্রগুলোর দাবি, ইরানের সম্পৃক্ততার কারণেই ওই ব্যবস্থার বাইরে রাখা হয়েছে ইসরায়েলকে।

এর আগে সোমবার ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩ এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জানায়, লেবাননে আগের মতো বাধাহীন সামরিক অভিযান চালানোর সুযোগ আর থাকবে না বলে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইসরায়েলকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে।

এদিকে মারিভ পত্রিকা জানিয়েছে, লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ছে। ওয়াশিংটন দক্ষিণ লেবানন পরিস্থিতিকে বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে দেখছে এবং এর সঙ্গে হরমুজ প্রণালি, জ্বালানি তেলের দাম, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের প্রচেষ্টা জড়িত।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের আশঙ্কা করছে যে দক্ষিণ লেবানন থেকে দ্রুত সেনা প্রত্যাহার দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখা হতে পারে এবং এতে হিজবুল্লাহ উপকৃত হবে।

সুইজারল্যান্ডে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১৮ ঘণ্টার আলোচনা শেষে এসব তথ্য সামনে এলো। ওই আলোচনায় ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের এখনও নিষ্পত্তি না হওয়া বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের বিষয়ও ছিল।

লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে দেশটিতে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত, ১২ হাজারের বেশি মানুষ আহত এবং আরও ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকা এখনও ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। এর মধ্যে কিছু এলাকা বহু দশক ধরে এবং কিছু এলাকা ২০২৩-২৪ সালের যুদ্ধের সময় দখল করা হয়।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ