চট্টগ্রামে সেপটিক ট্যাংকে পড়ে নিহত ৪
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 26, 2026 ইং
চট্টগ্রামে পৃথক স্থানে সেপটিক ট্যাংকে পড়ে চারজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) ধনিয়ালাপাড়া ও রাউজানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ঝিকুটি পাড়ায় রতন ডাক্তারের নির্মাণাধীন বাড়িতে দুপুরে কাজ করছিলেন নির্মাণ শ্রমিকরা। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রদীপ দাশ নামের এক শ্রমিক বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে নামেন। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় ট্যাংকের ভেতরে আগে থেকেই বিষাক্ত গ্যাস জমে ছিল। ভেতরে নামামাত্রই প্রদীপ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করতে দ্রুত সমীরণ দাশ নামে অপর এক শ্রমিক ট্যাংকে নামলে তিনিও একই গ্যাসের প্রকোপে অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত প্রদীপ দাশ পেশায় নির্মাণ শ্রমিক ছিলেন এবং তিনি বাড়ির মালিক রতন ডাক্তারের জামাতা বলে জানা গেছে।
একই দিন বিকেলে নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন ধনিয়ালাপাড়া এলাকায় জাকির ম্যানশনের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনের ওয়াটার রিজার্ভ ট্যাংকের সেন্টারিং খোলার কাজ করতে নেমে আরও দুই শ্রমিক প্রাণ হারান। নিহতরা হলেন নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার উত্তর শূন্যকিয়া এলাকার বাসিন্দা সাকিব এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী এলাকার হৃদয় মিয়া (২৫)। বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাদের অচেতন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নির্মাণাধীন ওই ভবনের ট্যাংকেও গ্যাস জমে ছিল, যার ফলে শ্রমিকরা ভেতরে নামার পর বিষক্রিয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
দুটি ঘটনার পরপরই স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ উদ্ধার তৎপরতা চালায়। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন এবং ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম পৃথকভাবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাউজানের ঘটনার পরপরই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। নির্মাণাধীন ভবনে কাজের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন না করা এবং আবদ্ধ স্থানে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের অভাবে এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :