ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধের মেয়াদ বাড়াল পাকিস্তান
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 18, 2026 ইং
ভারতীয় বা ভারত-নিয়ন্ত্রিত সব ধরনের বিমানের জন্য আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটির (পিএএ) জারি করা নতুন এক নির্দেশনায় (নোটাম) জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ জুলাই ভোর ৪টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। গত ১৬ জুন বিকাল ৫টা ৫০ মিনিট থেকে নতুন করে এই বর্ধিত নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর হয়েছে।
পিএএ-এর এই নির্দেশনার আওতায় সামরিক ও বাণিজ্যিক সব ধরনের ভারতীয় বিমান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এমনকি ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর লিজ নেওয়া উড়োজাহাজগুলোর ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর একই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
গত বছরের এপ্রিলে ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের পাহেলগাম হামলার পর দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে নয়াদিল্লি গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এর জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পাকিস্তান প্রথম তাদের আকাশপথে ভারতীয় বিমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। অবশ্য ইসলামাবাদ ওই হামলায় তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে একটি স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিল। পরবর্তীতে গত বছরের ৩০ এপ্রিল ভারতও পাকিস্তানি বিমানের জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।
পাহেলগাম হামলার পর ২০২৫ সালের ৬ ও ৭ মে ভারত পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি শহরে বিনা প্ররোচনায় হামলা চালায়। এর জবাবে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী 'অপারেশন বুনিয়ানুম মারসুস' নামে ব্যাপক মাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই সময় ভারতের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পাশাপাশি পাকিস্তান তিনটি রাফালসহ ভারতের আটটি যুদ্ধবিমান এবং বেশ কয়েক ডজন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে। পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই দেশের মধ্যকার কমপক্ষে ৮৭ ঘণ্টার সেই যুদ্ধের অবসান ঘটে।
আকাশসীমা বন্ধ রাখার কারণে ভারতের বিমান পরিবহন শিল্প বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হলেও পাকিস্তানের এভিয়েশন সেক্টরে এর প্রভাব খুব সামান্যই পড়েছে। তবে পাকিস্তানের এমন পদক্ষেপ এবারই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৯৯ সালের কার্গিল সংঘাত এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময়ও দেশটি তাদের আকাশসীমা বন্ধ রেখেছিল, যার ফলে সে সময়ও পাকিস্তানের চেয়ে ভারতের বিমান পরিবহন ব্যবস্থাতেই বেশি বিপর্যয় নেমে এসেছিল। সূত্র: জিও নিউজ
আপনার মতামত লিখুন :