• ঢাকা
  • | |
Alifhostbd

আদালতে আনা-নেয়ার সময় সোহেল রানার কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা


FavIcon
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 2, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে আনা-নেওয়ার সময় কথা বলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

শুনানি চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, কাস্টডিতে থাকা অবস্থায় বিচারকের অনুমতি ছাড়া কথা বলার এখতিয়ার না থাকলেও প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে আনা-নেওয়ার সময় বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। এসব মন্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। এর ফলে মামলার বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং মামলাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এরপর আসামিদের আদালতে তোলা ও নামানোর সময় তারা যেন কথা বলতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি আবেদন জানান। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে আসামিরা যাতে কথা বলতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

এদিন সকালে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং অপর আসামি স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দাসহ মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করেছে।

এর আগে সোমবার আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন, যা একই দিনে ট্রাইব্যুনাল আমলে নেয়।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী রামিসা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৯ মে সকালে ঘর থেকে বের হওয়ার পর আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা আসামির কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেন।

ঘটনাস্থল থেকেই স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পালিয়ে যাওয়া প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই ঘটনার পরদিন ২০ মে ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করার পর মঙ্গলবার মামলার আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলো।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ