ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 27, 2026 ইং
ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একাংশের মুসল্লিরা পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন। বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে রাজধানীসহ নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, সাতক্ষীরা, মৌলভীবাজার, পটুয়াখালী, বগুড়া, নওগাঁ, জামালপুর, ঝিনাইদহ, ঝালকাঠি, লক্ষ্মীপুর, দিনাজপুর, মাদারীপুর ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আগাম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কোথাও কোথাও পরিবার-পরিজন নিয়ে নারী-পুরুষ একসঙ্গে নামাজে অংশ নেন। নামাজ শেষে পশু কুরবানি, কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
রাজধানীর পান্থপথ এলাকার সামুরাই কনভেনশন সেন্টারে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ‘মুসলিম উম্মাহ বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ জামাতে কয়েকশ মুসল্লি অংশ নেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে তারা দীর্ঘদিন ধরে আগাম ঈদ উদযাপন করে আসছেন। নামাজ শেষে খুতবা ও বিশেষ দোয়ায় দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন মুসল্লিরা। বুধবার (২৭ মে) সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় অবস্থিত শাহ সুফি মমতাজিয়া মোহাম্মদীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও জামে মসজিদে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নেও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় মুসল্লিরা বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে। নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ ও দেশের শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। ঈদ জামাত শেষে মুসল্লিরা পশু কোরবানি করেন।
নওগাঁর পত্নীতলায় নজিপুর পৌরসভার কলনিপাড়া এলাকায় সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে নওগাঁসহ পার্শ্ববর্তী জেলার মুসল্লিরাও অংশ নেন। আয়োজকদের ভাষ্য, প্রায় ১০ বছর ধরে তারা এভাবে ঈদ পালন করে আসছেন।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাদ্রা দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে জেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে একই দিনে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। সকালে সাদ্রা দরবার শরীফের মাদরাসা মাঠে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়, পরে একই মাঠে আরেকটি জামাত হয়। দুই জামাতেই স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা ইমামতি করেন। ভোর থেকেই আশপাশের গ্রামগুলো থেকে মুসল্লিরা দলে দলে এসে নামাজে অংশ নেন।
নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কুরবানি সম্পন্ন করেন স্থানীয়রা। হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব ও শাহরাস্তিসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রামগুলোতে দিনভর ছিল ঈদের উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুসরণ করেই তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
একই ধারায় মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় সকাল ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। নারী-পুরুষ একসঙ্গে জামাতে অংশ নেওয়ার এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিশেষ পরিবেশ তৈরি হয়। নামাজ শেষে দোয়া, কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করেন। সকাল ৭টায় রামগঞ্জের জাহাঙ্গীর টাওয়ারস্থ খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া রামগঞ্জ শাখায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল আমিন। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাওলানা ইসহাক (রহ.)-এর অনুসারীরা দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে এ নিয়মে ঈদ পালন করে আসছেন।
মাদারীপুরের অন্তত ৪০ গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই ঈদ উদযাপন করেন। সদর উপজেলার চর কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সকাল ৯টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজারো মুসল্লি অংশ নেন। স্থানীয়দের মতে, সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারীরা প্রায় ২০০ বছর ধরে এভাবে ঈদ পালন করে আসছেন।
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ডহরশংকর গ্রামে ৫০টির বেশি পরিবার ঈদ উদযাপন করেন। দারুস সুন্নাহ জামে মসজিদের ঈদগাহে সকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের দাবি, ২০১৩ সাল থেকে তারা এভাবে ঈদ পালন করে আসছেন।
পটুয়াখালীর অন্তত ৩৫টি গ্রামেও একই দিনে ঈদ উদযাপিত হয়েছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী প্রায় ২৫ হাজার মানুষ এই ধারায় ঈদের নামাজ ও কুরবানি সম্পন্ন করেন। ভোর থেকেই গ্রামগুলোতে জামাত ও কুরবানিকে ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ।
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে খোলা মাঠের পরিবর্তে মসজিদের ভেতরে সীমিত পরিসরে জামাত আয়োজন করা হয়। স্থানীয়দের মতে, এটি গাবতলীতে আগাম ঈদ উদযাপনের ধারাবাহিক চতুর্থ বছর।
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামেও একই দিনে ঈদ উদযাপিত হয়েছে। সকালে জামাত শেষে কুরবানি ও পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে এলাকাগুলোতে উৎসব ছড়িয়ে পড়ে।
দিনাজপুরেও অর্ধশতাধিক স্থানে আগাম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারসহ বিভিন্ন মসজিদ ও গ্রামে সকাল থেকে মুসল্লিরা নামাজে অংশ নেন। স্থানীয়দের দাবি, জেলার প্রায় ৫০টি স্থানে এ ধরনের জামাত হয়েছে। প্রতিটি জামাতেই শত শত মানুষ অংশ নেন এবং পরে কুরবানি সম্পন্ন করেন।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়াসহ আশপাশের অন্তত ৬০টি গ্রামেও একই দিনে ঈদ উদযাপিত হয়েছে। মির্জাখীল দরবার শরীফ এবং জাহাঙ্গিরিয়া শাহসুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই ধারা অনুসরণ করে আসছেন। নির্ধারিত খানকাহ মাঠে প্রধান জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি থাকলেও বিভিন্ন স্থানে পৃথকভাবে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। কোথাও কোথাও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
ঈদের নামাজ শেষে অধিকাংশ স্থানে কোলাকুলি, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং কুরবানির মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন মুসল্লিরা। স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের অনুসরণের ধারাবাহিকতায় তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছেন।
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে সাতক্ষীরায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। আজ বুধবার (২৭ মে) সকালে সদর উপজেলার কুশখালি ইউনিয়নের বাউখোলা গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদ জামাতে ইমামতি করেন স্থানীয় মাওলানা মহব্বত আলী। এতে তালা, পাটকেলঘাটা, কলারোয়াসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। নামাজের পর তারা কোরবানি সম্পন্ন করেন।
মুসল্লিরা বলেন, পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে ঈদের চাঁদ উঠলেই ঈদের জামাত আদায় করা যাবে। যেহেতু ঈদের চাঁদ উঠেছে তাই আমরা ঈদ জামাত ও কুরবানি করছি।
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুর কয়েকটি স্থানে এবারও ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার নিত্যনন্দনপুর স্কুল মাঠের জামাত ঘরে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও উপজেলার ভালকি, পায়রাডাঙ্গাসহ কয়েকটি এলাকায়ও কিছু মুসল্লী ঈদের জামাত আদায় করেছেন।
মুসল্লিরা বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে তারা দীর্ঘদিন ধরেই ঈদ জামাতের আয়োজন করে আসছেন। এবারও দখলপুর, নারায়নকান্দি, বৈঠাপাড়া, বোয়ালিয়া, চটকাবাড়ীয়া, পারফলসী, নিত্যানন্দপুর, ভালকি ও পায়রাডাঙ্গা এলাকার শতাধিক মুসল্লি এই ঈদের জামাতে অংশ নেন।
খুতবায় ইমাম কোরবানি ও ত্যাগের তাৎপর্য তুলে ধরেন। ঈদ নামাজ শেষে পশু কোরবানি করেন মুসল্লিরা।
আপনার মতামত লিখুন :