নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, মৃত ৯৯, নিখোঁজ শত শত
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 26, 2026 ইং
নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত–সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবারের আকস্মিক বন্যায় রাস্তাঘাট, সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় এখনো চলছে উদ্ধার অভিযান।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৯৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত এবং অনেক এলাকা দুর্গম হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে নেপালের পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, বুধবার রসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যার পর ৪০৩ জন পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাঁদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি এবং ৬৩ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন।
পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয়, ৪৭ জন মার্কিন এবং ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন।
বন্যার প্রবল স্রোতে বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। সীমান্তের গিরং এলাকায় কাদা, পাথর ও পানির বিশাল স্রোত ধেয়ে এসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, বন্যাকবলিত ভোতেকোশি নদী এলাকায় ইতিমধ্যে ১১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনী বিভিন্ন ফ্লাইটের মাধ্যমে ৮০ জনের বেশি এবং বেসরকারি হেলিকপ্টার কোম্পানিগুলো আরও ২৯ জনকে উদ্ধার করেছে।
তবে দুর্গম পার্বত্য এলাকা, যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি এবং বিপুলসংখ্যক পর্যটক নিখোঁজ থাকায় পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নেপাল পর্বতারোহী ও ট্রেকারদের পাশাপাশি হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থযাত্রার জন্যও জনপ্রিয়। প্রতিবছর হাজারো মানুষ দেশটির বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে প্রার্থনা করতে যান।
এ সময় চীনের নিয়ন্ত্রণাধীন তিব্বতের নাগরি প্রিফেকচারে অবস্থিত পবিত্র কৈলাস পর্বত ভ্রমণেরও ব্যস্ত মৌসুম। কাঠমান্ডু থেকে কৈলাস যেতে প্রায় ১০ দিন সময় লাগে। পবিত্র স্থানগুলো দেখতে প্রতিবছর হাজারো তীর্থযাত্রী নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে তিব্বতে যান।
নেপালের পর্যটন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার এসব তীর্থযাত্রীর মধ্যেও শত শত মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১০০ জনের বেশি ভারতীয় রয়েছেন। তীর্থযাত্রীদের বহুল ব্যবহৃত নেপাল-তিব্বত সীমান্তের গিরং চেকপোস্টটি কাদা ও পানির বিশাল স্রোতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুর এক পর্যটন অপারেটর জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানের পর্যটকেরা ওই পার্বত্য এলাকায় তিনটি বাসে করে ভ্রমণ করছিলেন। তাঁর এক সহকর্মী বলেন, ভয়াবহ ভূমিধস শুরু হলে তাঁরা এলাকা থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় একটি বাস সড়ক থেকে নিচে পড়ে যায়। এরপর বাসের যাত্রীদের বিষয়ে তথ্যের জন্য তাঁরা অপেক্ষা করছিলেন।
তিনি আরও জানান, নেপাল সেনাবাহিনী নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করছে। তামিলনাড়ুর ৪০ জনের বেশি মানুষের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :