ফিফা সভাপতির পদ নিয়ে টানাটানি ইনফান্তিনোর
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 31, 2026 ইং
ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফায় এক দশকের নেতৃত্বে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। স্কাই নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সভাপতি পদে তাঁর অবস্থান দিন দিন আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ছে। মূলত তার কার্যনির্বাহী পরিষদের একের পর এক হটকারি সিদ্ধান্তে এমনটা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। যার সর্বশেষে সংযোজন ফিফার শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর একটি বড় অংশ।
ইউনিয়ন অব ইউরোপিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনউয়েফার ৫৫টি সদস্য সংস্থা সর্বসম্মতিক্রমে ফিফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তারা হুমকি দিয়েছে, এই পরিকল্পনা বাতিল না করা হলে তারা ফিফার টুর্নামেন্টগুলো বয়কট করবে। ফিফার প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ কেন্দ্রিক এই জরুরি বৈঠক এবং বিরোধের জেরেই এমন চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও নিজেদের জরুরি আলোচনার পর প্রকাশ্যে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে বয়কটের ঘোষণা না দিলেও, তারা পুরো প্রক্রিয়ার দ্রুততা, আলোচনার অভাব এবং পরিচালনাগত স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ফিফার ২১১টি সদস্য সংস্থার মধ্যে অন্তত ৯০টি সংস্থা প্রকাশ্যে এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা তলানিতে ঠেকছে। ফুটবল বিশ্বে জোর আলোচনা চলছে, এই বিতর্কই ইনফান্তিনোর সভাপতি মেয়াদের সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে উঠতে পারে।
এই বিতর্কিত পরিকল্পনার মূল বিষয় হলো—ফিফা ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গঠন করতে চায়, যার ২০ শতাংশ শেয়ার বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। ফিফার দাবি, এই পদক্ষেপে নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
এই তীব্র বিরোধিতার মুখে ইনফান্তিনো এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন। তাঁর পুরো মেয়াদে তিনি টুর্নামেন্টের পরিধি বাড়িয়েছেন, ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছেন এবং উচ্চাভিলাষী বাণিজ্যিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। সমর্থকেরা আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁর দূরদর্শিতার প্রশংসা করলেও, বিরোধীদের মতে তিনি ফিফাকে মাত্রাতিরিক্ত ও দ্রুত টেনে নিয়ে গেছেন। বলা চলে, সীমার বাইরে গিয়ে তিনি এবার বড় ঝুঁকিতে পড়ে গেছেন।
এই অভূতপূর্ব প্রতিরোধের তীব্রতাই বলে দেয়, প্রথাগত ফুটবল মোড়লরা মনে করছেন এবার ফিফা সব সীমা লঙ্ঘন করেছে। তাঁদের আপত্তি কেবল বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাশীল আসরগুলোর নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে—তা নিয়েও।
ইনফান্তিনো এই ধাক্কা সামলে উঠতে পারবেন কি না তা সময়ই বলে দেবে। তবে এটিই যে তাঁর সভাপতিত্বকালের সবচেয়ে বড় সংগঠিত প্রতিরোধ—তাতে কোনো সন্দেহ নেই। চতুর্থ মেয়াদেও ফিফা সভাপতি হিসেবে তাঁর টিকে থাকা একপ্রকার নিশ্চিতই ছিল, তবে সাম্প্রতিক এই তোলপাড় তাঁর সেই সুযোগের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :