সব উপজেলা হাসপাতালে প্যাথলজিক্যাল ল্যাব করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 13, 2026 ইং
উপজেলা পর্যায়ে সব হাসপাতালে প্যাথলজিক্যাল ল্যাব করা হবে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। আজ (সোমবার, ১৩ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্প্ল্যাশ’ প্রকল্পের উদ্বোধনী সেমিনারে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, চলতি মাসেই আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি শুরু হবে। এই বছরের মধ্যেই প্রতিটি হাসপাতালে আধুনিক প্যাথলজিক্যাল ল্যাব স্থাপন করা হবে।
ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি, জেলা হাসপাতালে ১০টি এবং উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ১০টি করে ডায়ালাইসিস শয্যার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে কিডনি রোগীরা স্থানীয় পর্যায়েই চিকিৎসাসেবা পান।
উপজেলা হাসপাতালের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় ৩১ শয্যার উপজেলা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, পরে সেগুলো ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে ব্রেস্টফিডিং কর্নার, প্রেয়ার কর্নার, আধুনিক প্যাথলজি বিভাগ এবং কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘দালালদের খপ্পর থেকে মা ও শিশুদের রক্ষা করতে এবং হাসপাতালে বাইরে নিরাপদ নরমাল ডেলিভারি বাড়াতে সরকার দ্রুত মিডওয়াইফ ও কেয়ারটেকার নিয়োগ করতে যাচ্ছে, যা নবজাতকদের শালদুধ পাওয়া নিশ্চিত করবে।’
এছাড়া নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আগামী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার স্ক্রিনিং এবং কিডনি রোগীদের জন্য উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিট চালুর চূড়ান্ত রূপরেখাও তুলে ধরেন তিনি।
আয়োজকেরা জানান, বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৪৭ কোটি ৩০ লাখের বেশি শিশু মানবিক সংকটপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে। ৫ কোটি ২০ লাখের বেশি শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। এ বাস্তবতায় ৫ কোটি মার্কিন ডলারের অংশীদারত্বে বাস্তবায়িত এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও কাজ করা হবে।
বাংলাদেশে প্রকল্পটির প্রথম ধাপ ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। জন্ম থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য বয়সভেত্তিক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ ও জীবিকায়নের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি আশ্রয়শিবির ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীতে খেলাভিত্তিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, লেগো ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক কর্মসূচির প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক আলামিসহ সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আপনার মতামত লিখুন :