মেক্সিকোকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টারে ইংল্যান্ড
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 6, 2026 ইং
আজতেকা স্টেডিয়ামে নাটকীয় এক ম্যাচে জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজতেকা স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক মেক্সিকো ও ইংল্যান্ড। ইংলিশদের প্রতিপক্ষ ছিল আজতেকা স্টেডিয়ামের ৮০ হাজারের বেশি মেক্সিকোর সমর্থক।
দিনভর মেক্সিকো সিটিতে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচের ভেন্যু আজতেকা স্টেডিয়ামের আকাশে বজ্রপাতও দেখা গেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচ এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে বজ্রপাতের কারনে ১ ঘন্টা বিলম্বে শুরু হয়েছে মেক্সিকো-ইংল্যান্ডের ম্যাচটি।
চলমান বিশ্বকাপে যৌথ স্বাগতিক মেক্সিকো কি দারুণ শুরুটাই না করেছিল। গ্রুপ রাউন্ডে প্রতিপক্ষ কাউকে পাত্তা দেয়নি। ইকুয়েডরকে ২-০, চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে ৩-০, দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নক আউট রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ে মেক্সিকান ওয়েভে মাতিয়েছে বিশ্ব। টানা ৪ ম্যাচ গোল না খেয়ে জয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল তারা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল না খেয়ে জিততে পারলে ১৯৯০ বিশ্বকাপে গোল হজম না করে ইতালির টানা ৫ জয়ের রেকর্ডকে ছুঁতে পারতো। ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলে ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনালের রেকর্ড স্পর্শ করতে পারতো মেক্সিকো। তবে দারুণ কিছুর হাতছানি দিয়ে শেষ ষোলতে এসে থেমেছে মেক্সিকান ওয়েভ। ইংল্যান্ডের কাছে ৩-২ গোলে হেরে রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকে বিদায় নিয়েছে যৌথ স্বাগতিক মেক্সিকো।
মেক্সিকোর বিপক্ষে হেড টু হেডে ৯-১ এ এগিয়ে থেকে মেক্সিকোর আজতেকায় স্বাগতিকদের মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড ফুটবল দল। বিশ্বকাপেও মেক্সিকোর বিপক্ষে অতীতে একমাত্র জয়ের সুখস্মৃতিটা ইংল্যান্ডকে রেখেছে উজ্জীবিত। এই অতীত রেকর্ডের পথেই হেঁটেছে ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচের ভাগ্য। ৩-২ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে ইংল্যান্ড।
৪-৩-৩ ফরমেশনে দ্বিগুনের চেয়েও বেশি সময় বলের দখল নিয়ে, নিজেদের মধ্যে দ্বিগুনের বেশি পাস দিয়েও ম্যাচের ফলাফলটা নিজেদের পক্ষে নিতে পারেনি মেক্সিকো। বরং ৪-৩-৩ ফরমেশনে কাউন্টার অ্যাটাকগুলো ভয়ংকর করে গোলের খেলায় শেষ হাসি হেসেছে ইংল্যান্ড। মধ্যমাঠের জেনারেল বেলিং হাম এবংফরোয়ার্ড হ্যারি কেন নির্ভরতায় উৎসব করেছে ইংল্যান্ড।
খেলার প্রথমার্ধে স্রোতের বিপরীতে মাত্র ৬ মিনিটের মধ্যে ২-১এ এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৩৬ থেকে ৩৮, এই দুই মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন জুড বেলিংহাম। এরপর এক গোল শোধ করেন মেক্সিকোর হুলিয়ান কিনিয়োনেস।
স্রোতের বিপরীতে দুর্দান্ত এক প্রতিআক্রমণ থেকে ম্যাচের ৩৬ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন বেলিংহাম। আক্রমণের সূচনা করেন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। ডেকলান রাইস বল এগিয়ে নিয়ে ডান প্রান্তে থাকা বুকায়ো সাকার কাছে পাস বাড়ান।সাকা সেখান থেকে বক্সে দারুণ একটি ক্রস ভাসান। বলটি হ্যারি কেইনের নাগাল না পেলেও জুড বেলিংহামের নাগাল এড়ায়নি। ডাইভিং হেডে বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন তিনি (১-০)।
দুই মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুন করেন বেলিংহাম। কিক–অফের পরপরই আবারও মেক্সিকোর রক্ষণে ঝাঁপিয়ে পড়ে থ্রি লায়ন্স। দুর্দান্ত লড়াই করে বল দখলে নেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। এরপর বল যায় হ্যারি কেইনের কাছে। তিনি বক্সের ভেতরে থাকা জুড বেলিংহামকে দেন থ্রু। সেই থ্রু পেয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন বেলিংহাম (২-০)।
খেলার ৪২ মিনিটের মাথায় ব্যবধান কমান মেক্সিকোর হুলিয়ান কুইনোনস। আলভারাদোর ইনসুইং ফ্রি-কিকটি ছয়-গজ বক্সের ঠিক বাইরে সম্পূর্ণ অরক্ষিত কুইনোনেসের কাছে সুবিধাজনকভাবে চলে আসে। ফর্মে থাকা এই উইঙ্গার দারুণ ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দেন (১-২)।
এর পর বেশ কবার সমতার সুযোগ হাতছাড়া করে মেক্সিকো। খেলার ৪৯তম মিনিটে ছয়-গজ বক্সের ভেতর থেকে ও'রাইলির নেয়া শট ইংল্যান্ড গোলরক্ষক রাঙ্গেলকে পরাস্ত করেও পায়নি গোলের দেখা। তাঁর নেয়া শট গোল পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়।
খেলার ৫৩ মিনিটের মাথায় ভিডিও অ্যাসিস্টেন্ট রেফারির ( ভার) সিদ্ধান্তে ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার কোয়ানসাহেরকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন রেফারি। ফলে ইংল্যান্ড শেষ ৩৭ মিনিট খেলেছে ১০জনকে নিয়ে। তবে ১০জনের ইংল্যান্ড এগিয়ে যায় আরও এক দফায়। খেলার ৫৯ মিনিটের মাথায় ডি বক্সের মধ্যে ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড গর্ডনকে মেক্সিকো গোলরক্ষক ফাউল করলে ভার-এ রিপ্লে দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। পেনাল্টি থেকে দলের পক্ষে তৃতীয় গোল করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন (৩-১)। চলমান বিশ্বকাপে এটি হ্যারি কেনের ৫ম এবং বিশ্বকাপে ১৪ গোল। এই গোলে ছাড়িয়ে গেলেন তিনি ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনকে (১৩ গোল)। ছুঁয়েছেন জার্মানীর গার্ড মুলারকে। তাঁর সামনে এখন ব্রাজিলের রোনাল্ডো (১৫ গোল), জার্মানীর মিরোস্লাভ ক্লোসা (১৬ গোল), ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে (১৯ গোল) এবং আর্জেন্টিনার মেসি ( ২০ গোল)।
পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের ভুলে প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি উপহার দিয়েছেন হ্যারি কেন। খেলার ৬৭তম মিনিটে মেক্সিকোর গুতিয়েরেজের পা থেকে বল ক্লিয়ার করতে যেয়ে ফাউল করেন হ্যারি কেন। রেফারির চোখ এড়িয়ে গেলেও মেক্সিকো ফুটবলারদের জোরালো আবেদনে ভার-এ দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। পেনাল্টি থেকে গোল করে রাউল হিমেনেজ (২-৩)।
খেলার শেষ দিকে উপর্যুপরি আক্রমন করেও সমতা আনতে পারেনি মেক্সিকো। ম্যাচটাকে টেনে নিতে পারেনি অতিরিক্ত সময়ে। কানাডার পর দ্বিতীয় স্বাগতিক হিসেবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো মেক্সিকোকে। স্বাগতিকদের মধ্যে শুধু টিকে রইলো যুক্তরাষ্ট্র।
আপনার মতামত লিখুন :