• ঢাকা
  • | |
Alifhostbd

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য ঔষধ চুক্তি: প্রায় আড়াই লাখ মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা!


FavIcon
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 3, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি নতুন ওষুধ চুক্তির কারণে ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) থেকে শত শত কোটি পাউন্ড অন্যত্র সরে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের (বিএমজে) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য খাতের এই বিপুল অর্থ অন্য খাতে ব্যয়ের ফলে অন্তত ২ লাখ ২৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গত ডিসেম্বরে দেশ দুটির মধ্যে এই বাণিজ্য চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী তিন বছর যুক্তরাজ্য থেকে ওষুধ ও চিকিৎসা প্রযুক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে মার্কিন সরকার কোনো শুল্ক আরোপ করবে না। এর বিনিময়ে ব্রিটিশ সরকার নতুন মার্কিন ওষুধের জন্য এনএইচএসের ব্যয় বর্তমানের শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০৩৬ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অন্তত শূন্য দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর ফলে এনএইচএস বাজেটে ওষুধের সামগ্রিক ব্যয় ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানবিষয়ক মন্ত্রী প্যাট্রিক ভ্যাল্যান্স জানান, ওষুধের এই বাড়তি ব্যয়ের অর্থ ট্রেজারি থেকে আসবে না, বরং এটি মেটাবে ইংল্যান্ডের এনএইচএসে অর্থায়নকারী ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার।

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিবিদরা এই চুক্তির পক্ষে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। প্যাট্রিক ভ্যাল্যান্স গত এপ্রিলে জানিয়েছিলেন, চুক্তির ফলে এনএইচএসের রোগীরা এমন কিছু নতুন জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন, যা আগে তাদের নাগালের বাইরে ছিল। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে শূন্য শুল্কে ওষুধ রপ্তানির সুবিধা পাওয়ায় ব্রিটেনের লাইফ সায়েন্স খাত আরও চাঙা হবে বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে বিএমজে-তে প্রকাশিত গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, এনএইচএসের তহবিল না বাড়িয়ে আগামী এক দশকে নতুন ব্র্যান্ডের ওষুধের পেছনে এত বেশি অর্থ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি জনস্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি অ্যান্ড থেরাপিউটিকস বিভাগের অধ্যাপক এবং গবেষণা প্রতিবেদনের সহ-লেখক স্যামুয়েল ক্রস জানান, এই চুক্তিতে মূলত ওষুধ কোম্পানিগুলো লাভবান হবে আর এর খেসারত দিতে হবে এনএইচএসের রোগীদের।

সমীক্ষার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে ২০২৮ সালের মধ্যে এনএইচএসকে বছরে অতিরিক্ত ১৩০ কোটি পাউন্ড এবং ২০৩৬ সালের মধ্যে বছরে অতিরিক্ত ৮৮৮ কোটি পাউন্ড ব্যয় করতে হবে। ২০৩৬ সালের শেষ নাগাদ এই অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৪৭০ কোটি পাউন্ডে দাঁড়াবে। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক সেবার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইংলিশ লোকাল অথরিটির মডেলিং অনুযায়ী, চুক্তির অর্থায়নের জন্য এনএইচএসকে ১০০ কোটি পাউন্ড জোগাড় করতে হলে প্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক সেবার খরচ ১১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড বেড়ে যাবে।

গবেষণায় শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এনএইচএসের ওপর এই চুক্তির প্রভাব বিবেচনা করলে ২০৩৬ সালের মধ্যে আনুমানিক ২ লাখ ২৯ হাজার মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে, যা ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত কোভিড মহামারির সময়ের প্রাণহানিকেও ছাড়িয়ে যাবে। আর যদি প্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক সেবার ওপর পরোক্ষ প্রভাবও অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে অতিরিক্ত মৃত্যুর এই সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ৯১ হাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ