• ঢাকা
  • | |
Alifhostbd

হ্যারি কেইনের জাদুতে কঙ্গোর হৃদয় ভেঙে ইংল্যান্ডের রেকর্ডগড়া জয়


FavIcon
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 1, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

‘ইটস কামিং হোম’ - এই স্লোগানটাই যেন বছরের পর বছর ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযানের প্রতীক। বছর বছর এই এক স্লোগানেই নতুন আশা, স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে মাঠে নামে ইংল্যান্ড। সমর্থকরাও আশায় বুক বাধে। গ্রুপ পর্বে দাপটের সঙ্গে পথচলায় সেই আশার স্রোত মিশে যায় মোহনায়। যেখানে একটি ট্রফির জন্য তাদের অপেক্ষা ১৯৯৬ সাল থেকে। 

এরপর কতো নায়ক, মহায়নায়ক এলো সেই থ্রি লায়ন্সের শিবিরে। একেক জনের দখলে কতো গোল, কতো সহস্র অর্জন। কিন্তু বিশ্বকাপের সেই সোনালী ট্রফি কেউ এনে দিতে পারে না। ২০২৬ সেই হাহাকারের তালিকায় যুক্ত হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু নাহ!

এবার একজন হ্যারি কেইন আছেন। যিনি অজুত নিযুত ঘামবিন্দু ঝরিয়ে, চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় ইংল্যান্ডকে জেতাতে পারেন। গ্রুপ পর্বে দেখিয়েছেন কারিশমা। সেখান থেকে নক আউটের প্রথম পরীক্ষায় কেইন পেয়ে গেলেন লেটার মার্কস। তার জোড়া গোলে ডিআর কঙ্গোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইংল্যান্ড পেয়ে গেছে প্রি কোয়ার্টারের টিকিট। 

তবে ম্যাচটায় কঙ্গো যা করলো তাদের বাহবাই দিতে হবে। প্রতিপক্ষ নিয়ে ইংল্যান্ডের চিন্তার কারণ থাকার কথা নয়। দাপটের সঙ্গে সবুজ ঘাসে গোলের আনন্দে মেতে উঠার কথা। কিন্তু তারাও কিনা ৭৫ মিনিট পর্যন্ত তিলে তিলে মরে! ইংল্যান্ডের কাঁপন ধরে যায় ডাগ আউটে। সমর্থকরাও চোখের কোনে অশ্রু জমা করেন। দুশ্চিন্তায় থাকেন থমাস টুকেল।  

এরপরই আসে মাহেন্দ্রক্ষণ। ৭৫ মিনিটে হেডে কঙ্গোর গোলরক্ষ এমপাসিকে ফাঁকি দেন। এরপর ঠিক ১১ মিনিট পর ডানপায়ের কোনাকুনি জোরালো শটে ভেঙে দেন বাধার দেয়াল। কঙ্গোর কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে কেইন ম্যাচের এপিটাফ লিখে ফেলেন। কেইনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।

প্রথমার্ধে ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে লিড নিয়েছিল কঙ্গো। পরে দ্বিতীয়ার্ধে ইংলিশদের জয় এনে দেওয়া গোল দুইটি করেন কেইন।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকার পরও জয় পেল ইংল্যান্ড। এর আগে ৯ ম্যাচে প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকার পর ৭টিই হেরেছিল তারা আর ড্র হয়েছিল ২ ম্যাচ। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড।

কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ এখন মেক্সিকো। মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আগামী সোমবার ভোরে শেষ ষোলোর ম্যাচে লড়বে মেক্সিকো ও ইংল্যান্ড।

ম্যাচে জোড়া গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যাকে ৫-এ নিয়ে গেলেন কেইন। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার গোল এখন ১৩টি। এর মধ্যে নকআউট পর্বে তিনি করেছেন ৫ গোল। ইংল্যান্ডের হয়ে তার চেয়ে বেশি নকআউট গোল শুধু গ্যারি লিনেকারের, ৬টি।

আটালান্টা স্টেডিয়ামে শুরুতে ইংল্যান্ডকে চমকে দিয়ে লিড নেয় ডিআর কঙ্গো। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে মাঝমাঠের কাছ থেকে ডি-বক্সে লম্বা করে ক্রস দেন শঁসেল এমবেম্বা। বাম পাশে ফাঁকায় পেয়ে যান ব্রায়ান সিপেঙ্গা। 

কিছুটা এগিয়ে গিয়ে কাছের পোস্টে নিচু করে মাটিতে ঘেঁষা শট নেন ডিআর কঙ্গো ফরোয়ার্ড। ইংলিশ গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ডের হাতের নিচ দিয়ে চলে যায় বল। প্রথমবার নকআউটে উঠে শুরুতেই গোল পেয়ে উচ্ছ্বাসে মাতে কঙ্গো।

ম্যাচে ফিরতে চেষ্টা করলেও প্রথম হাইড্রেশন বিরতি পর্যন্ত তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ইংল্যান্ড। ম্যাচের ২৯ মিনিটে চমৎকার ক্রস দেন ডেকলাইন রাইস। ফাঁকায় পেয়ে জোরাল হেড করেন জুড বেলিংহাম। কিন্তু বাম দিকে হাত বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন কঙ্গোর গোলকিপার লিওনেল ম্পাসি।

ম্যাচের ৩৫ মিনিটে প্রায় নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় ইংল্যান্ড। প্রথমে হ্যারি কেনের দারুণ শট ঠেকিয়ে দেন আলেক্সান্ডার তুয়ানজেবে। ফিরতি বল বাম পাশে ফাঁকায় পেয়ে প্লেসিং শট নেন মার্কাস র‍্যাশফোর্ড। এবার গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন অ্যারন ওয়ান-বিসাকা।

পরে বিরতিতে যাওয়ার আগে বাকি সময়টায় কঙ্গোর রক্ষণে আক্রমণের জোয়ার তোলে ইংল্যান্ড। তবে খেলার ধারার বিপরীতে ৪১ মিনিটে আরেকটি সুযোগ তৈরি করে কঙ্গো। বিসাকার ক্রস থেকে ট্যাপ-ইন করেন ইয়োয়ান উইসা। কিন্তু পোস্টে লেগে বাইরে চলে যায় বল।

মিনিট দুয়েক পর কঙ্গোর ডি-বক্সে গিয়ে এক ডিফেন্ডার ও গোলকিপারের সঙ্গে মিলে পড়ে যান হ্যারি কেইন। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির আবেদন করে ইংল্যান্ড। তবে তাতে সাড়া দেননি রেফারি। এমনকি ভিএআরও জানায়, পেনাল্টি হয়নি সেটি।

প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার আগে দেওয়া হয় ৬ মিনিট অতিরিক্ত সময়। এর দ্বিতীয় মিনিটে আবারও কঙ্গোর জাল অক্ষত রাখেন ম্পাসি। এবার বেলিংহামের দুর্দান্ত হেড ডান দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন ৩১ বছর বয়সী গোলকিপার।

অতিরিক্ত যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে আবারও গোলের বড় সুযোগ তৈরি করে ইংল্যান্ড। ক্রস থেকে উড়ে আসা বলে ভলি করেন কেইন। একদম গোল মুখ থেকে সেটি ঠেকিয়ে দেন ম্পাসি। ফলে বিরতির আগে আর গোল পাওয়া হয়নি ইংল্যান্ডের।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে একই ছন্দে খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। কিন্তু বারবার ম্পাসির বিশ্বস্ত গ্লাভসে বাধাপ্রাপ্ত হয় তাদের সব চেষ্টা। দ্বিতীয় হাইড্রেশন বিরতি পর্যন্ত অন্তত ৫টি জোরাল আক্রমণ ও শট করেও ম্যাচে সমতা ফেরাতে পারেনি ইংলিশরা। 

হাইড্রেশন বিরতির পর অবশেষে প্রথম গোলের দেখা পায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে বদলি নামা অ্যান্থনি গর্ডন দেন চমৎকার ক্রস। ডি বক্সের মাঝামাঝি জায়গায় লাফিয়ে উঠে হেড দেন কেইন। এবারও হাতে লাগালেও জালে ঢোকা থেকে রুখতে পারেননি ম্পাসি। 

চলতি বিশ্বকাপে হ্যারি কেনের এটি ছিল চতুর্থ গোল। আর সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে হেড থেকে করা চতুর্থ গোল। ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে গত ৬০ বছরে তার চেয়ে বেশি হেডে গোল আছে শুধু মিরোস্লাভ ক্লোসা (৭) ও জার্ড মুলারের।

সমতা ফেরানোর পর লিড নিতে আরও মরিয়া চেষ্টা চালায় ইংল্যান্ড। সুফলও তারা পেয়ে যায় মাত্র দশ মিনিটের মধ্যে। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে গর্ডনের কাছ থেকে পাস পেয়ে হালকা ড্রিবল করে জায়গা বানিয়ে জোরাল শট নেন কেইন। চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করতে পারেননি কঙ্গো গোলকিপার।

লিড নেওয়ার পর গোলের জন্য আরও চেষ্টা চালায় ইংল্যান্ড। তবে সফল হয়নি তারা। উল্টো অতিরিক্ত যোগ করা সময়ের একদম শেষ দিকে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পেয়ে যায় কঙ্গো। তবে বিসাকার শট অনেক ওপর দিয়ে চলে গেলে ম্যাচ জিতে যায় ইংল্যান্ড।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ