সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 20, 2026 ইং
লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের এই সফরকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান অন্তর্বর্তী সমঝোতাকে আরও স্থায়ী ও কার্যকর রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রেও এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এর আগে লেবাননে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার নির্ধারিত সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেছিলেন। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সুইজারল্যান্ডে পৌঁছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করবেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিরও শনিবার সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। যদিও তার সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই সফর কেবল যুদ্ধবিরতি রক্ষার জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরুরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, নৌপথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে স্টিভ উইটকফের সফর সম্পর্কে হোয়াইট হাউস এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবানন সময় বিকেল ৪টায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং ইরানের সহযোগিতায় এই সমঝোতা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়েছে।
রয়টার্সের কাছে হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, হিজবুল্লাহ নতুন করে হামলা না চালালে ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও সামরিক অভিযান চালানো হবে না। তবে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় ইসরায়েলি সেনা অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রথম ঘণ্টার মধ্যেও কয়েকটি বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে বিকেল ৫টার পর পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়ে আসে এবং বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবাননে পরিচালিত এক অভিযানে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সুইজারল্যান্ডে সম্ভাব্য এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এটি শুধু লেবানন সংকট নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ভবিষ্যতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আপনার মতামত লিখুন :