• ঢাকা
  • | |
Alifhostbd

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে এসির গ্যাস লিকেজে ৬ শিশুর মৃত্যু


FavIcon
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 27, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে এসির গ্যাস লিকেজ থেকে একটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ৬ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ঢাকার আদ্‌-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে স্বাস্থ্য অধিদফতর। একই সঙ্গে হাসপাতালটির পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড ২ সিলগালা করা হবে।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিজি) ডা, জাহিদ রায়হান এ তথ্য জানান।

তার মতে, পোস্ট অপারেটিভ থেকে এনআইসিইউতে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকতে পারে। আর হাসপাতাল কতৃপক্ষের গাফিলতি ছিল কি না বিস্তারিত জেনে জানাবেন বললেন তিনি।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সকালে হাসপাতালের ওই নির্দিষ্ট ওয়ার্ডটিতে থাকা এসি সিস্টেমে হঠাৎ ত্রুটি দেখা দেয় এবং সেখান থেকে গ্যাস লিকেজ হতে শুরু করে। এর ফলে ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুদের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে ছয়জন শিশুর মৃত্যু হয়। তবে মর্মান্তিক এই ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনার বিষয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঠিক কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল এবং এর পেছনে কারও কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বুধবার (২৭ মে) ডিএমপির রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রব্বানী হোসেন বলেন, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পুলিশের কাছে আসিনি। তাই আটক বা গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে আমরা পরে সিদ্ধান্ত নেব। আমরা এখন ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত করছি। তবে এই হাসপাতালের অনেকেই আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। আমাদের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে ঘটনাস্থল পরীক্ষা-নিরীক্ষাকেরতে দুপুর ২টায় ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিটের একটি টিম আদ-দ্বীন হাসপাতালে আসে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিমের এক সদস্য বলেন, আমাদেরকে সিনিয়র স্যাররা এখানে ডেকেছেন। আমরা উন্নত প্রযুক্তির কিছু ডিভাইস নিয়ে এসেছি। যে কক্ষে নবজাতকরা মারা গেছে সেই কক্ষে আমরা এসব ডিভাইস দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করব। এখানে কোনো বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়েছে কিনা। আর ছড়িয়ে থাকলে কোন গ্যাস এবং কী পরিমাণে ছড়িয়েছে-তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

এদিকে পোস্ট অপারেটিভ রুমে গিয়ে কক্ষটির ভেতরে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। বেশিক্ষণ এই কক্ষে থাকার কোনো উপক্রম ছিল না। অল্পতেই নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে এবং চোখ জ্বালাপোড়া করতে শুরু করে।

এর আগে সিআইডি ক্রাইমসিনের একটি টিম ঘটনাস্থল এসে নমুনা সংগ্রহ করে। সরেজমিনে দেখা যায়, ক্রাইমসিন ঘটনাস্থলে এসে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ রুমে প্রবেশ করে। সেখানে তারা এ ঘটনার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে। প্রায় ঘণ্টাখানেক তারা কাজ করে।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ