ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 14, 2026 ইং
বর্তমান সময়ে কাজের ধারা পরিবর্তন এসেছে। এখন অনেকেই ওয়ার্ক ফ্রম হোম করেন। আর সেইসঙ্গে এমন অনেকেই আছেন যারা বাংলাদেশে থেকেই দেশের বাইরের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেন নিজের ঘরে। তবে দেখা যায় ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের ব্যথায় ভোগেন অনেকেই।
মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হলে অনেকের জন্যই কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। মাথার তীব্র যন্ত্রণা, আলো-শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা সব মিলিয়ে স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। গবেষণা বলছে, মাইগ্রেনের সময় কর্মক্ষেত্রে মানুষের কাজের কার্যকারিতা প্রায় ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তবে যারা ওয়ার্ক ফ্রম হোম করেন তারা কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখলেই মাইগ্রেন থেকে মুক্তি পেতে পারেন এমনতাই বলছেন চিকিৎসক। বিশেষজ্ঞদের মতে নিজের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ থাকায় মাইগ্রেনের ট্রিগার কমানো সহজ হয়।
হেলথলাইনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, লিন্ডসে দে লস সান্তোস নামের একজন মার্কিন শিক্ষক, তিনি ২৪ বছর ধরে শিক্ষকতা করেছেন। কিন্তু সেই সময়ে তার মাইগ্রেনের সমস্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে। এখন তিনি আমেরিকান মাইগ্রেন ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেসি ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন আর এই কাজটি প্রায় পুরোপুরি ঘরে বসে করা যায়। লিন্ডসে বলেন, এই কাজের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আমি বাড়িতে বসে কাজ করতে পারি। ফলে নিজের পরিবেশ আমি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি এবং প্রয়োজনে ওষুধও নিতে পারি।
শিক্ষকতা করার সময় লিন্ডসের জন্য মাইগ্রেন সামলানো ছিল খুব কঠিন। শ্রেণিকক্ষের তীব্র আলো, স্কুলের সমাবেশের শব্দএসব তার মাইগ্রেনের বড় ট্রিগার ছিল। তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ মাইগ্রেন-বান্ধব ছিল না। আলো, শব্দ অনেক কিছুই আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। ফলে কাজ করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক সময় মাইগ্রেনে ভোগা মানুষ অফিসে উপস্থিত থাকলেও ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না। এই পরিস্থিতিকে বলা হয় প্রেজেন্টিজম অর্থাৎ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকলেও কাজের উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া।
ঘরে তৈরি মাইগ্রেন-বান্ধব কর্মপরিবেশ
ঘরে বসে কাজ করার ফলে লিন্ডসে নিজের জন্য একটি আরামদায়ক অফিস তৈরি করেছেন। তিনি এমন জায়গায় বসেন যেখানে প্রয়োজনে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে পারেন, আবার দরকার হলে নরম আলোও ব্যবহার করা যায়। এছাড়া তার কর্মস্থলটি শান্ত যেখানে তীব্র গন্ধ বা শব্দ নেই, যা মাইগ্রেন বাড়াতে পারে। ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনি স্পেস হিটারও ব্যবহার করেন।
তিনি বলেন, প্রয়োজনে আমি একটু বিরতি নিতে পারি, পানি পান করতে পারি, খাবার খেতে পারি বা ওষুধ নিতে পারি। বাড়িতে থাকলে এসব করা অনেক সহজ।
সহকর্মীদের সহানুভূতি জরুরি
মাইগ্রেন সামলাতে শুধু পরিবেশ নয়, সহকর্মীদের সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ। লিন্ডসে মনে করেন, সহানুভূতিশীল সহকর্মী থাকলে কাজ করা অনেক সহজ হয়। তার ভাষায়, আমার সহকর্মীরা খুবই সহায়ক। কর্মক্ষেত্রে এই সমর্থন না থাকলে বিষয়টি অনেক বেশি কঠিন হয়ে যেত। তবে সবাই এমন সহানুভূতিশীল পরিবেশ পান না। অনেকেই মাইগ্রেন নিয়ে কথা বলতে দ্বিধা করেন, কারণ এ নিয়ে এখনও অনেক ভুল ধারণা ও সামাজিক চাপ রয়েছে।
নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া জরুরি
মাইগ্রেনের কারণে অনেক সময় লিন্ডসেও অপরাধবোধে ভোগেন। কাজের মাঝখানে বিরতি নেওয়া বা বিশ্রাম নেওয়ার প্রয়োজন হলে তার খারাপ লাগে। তবে তিনি এখন নিজেকে একটু বেশি সময় দিতে শিখেছেন। তিনি বলেন, নিজেকে একটু সময় দেয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি আপনার সেরাটাই করার চেষ্টা করছেন এটা মনে রাখা দরকার। কাজ হয়তো একটু পরে হবে, কিন্তু কাজ থেমে থাকবে না।
লিন্ডসের মতে, মাইগ্রেন থাকা মানে জীবনের সবকিছু থেমে যাওয়া নয়। সঠিক পরিবেশ, নমনীয় কাজের সময় এবং সহানুভূতিশীল মানুষ থাকলে মাইগ্রেন নিয়েও কর্মজীবনে সফল হওয়া সম্ভব। তিনি এখন মনে করেন নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে অন্যদের সাহায্য করতে পারাটাই তার কাজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
আপনার মতামত লিখুন :