• ঢাকা
  • | |
Alifhostbd

স্পেন ও ইতালির পাল্টাপাল্টি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ


FavIcon
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 9, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ভূখণ্ড সেউতা উপকূলে অভিবাসনপ্রবাহ নিয়ে ইতালি ও স্পেনের মধ্যে বিরোধ তীব্র হচ্ছে। এই ইস্যুতে স্পেন থেকে আসা যাত্রীদের ওপর ইতালির নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর এবার পাল্টা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে স্পেন। ইতালি থেকে আসা সব বিমান ও সমুদ্রপথের যাত্রীদের ওপর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে দেশটি। খবর, বিবিসির। 

শনিবার (৮ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া এই ব্যবস্থা এক মাস বহাল থাকবে। এর এক সপ্তাহ আগে, সেউতায় মরক্কো থেকে প্রায় ৭৮ হাজার অভিবাসী প্রবেশের পর, একই ধরনের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু করেছিল ইতালি।

স্পেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমান থেকে যাত্রীদের নামতে দেওয়ার আগে তাদের ৫ থেকে ১০ শতাংশের নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইতালিও জানিয়েছে, তাদের তল্লাশি হবে বাছাইয়ের ভিত্তিতে।

এ ঘটনায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় ইউনিয়নে কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন মেলোনি।

ইতালির সঙ্গে স্পেনের কোনো স্থলসীমান্ত নেই। তারপরও সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীরা ইতালিতে চলে যেতে পারেন— এই আশঙ্কায় গত সপ্তাহে সাময়িকভাবে শেনজেন চুক্তির অবাধ চলাচল ব্যবস্থা স্থগিত করে ইতালি। তবে মাদ্রিদ এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে একে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি বলে উল্লেখ করেছে।

শুক্রবার স্পেন রোমকে রোববারের মধ্যে সীমান্ত তল্লাশি প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। তবে ইতালি জানিয়েছে, অন্তত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এ ব্যবস্থা বহাল থাকবে। তাদের দাবি, ওই সময় সেউতায় নতুন করে অভিবাসীদের ঢলের আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ইতালি জানিয়েছে, স্পেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের অতিরিক্ত তল্লাশি থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই করা হচ্ছে। এদিকে ইতালির বিভিন্ন বিমানবন্দরে দীর্ঘ সারি ও অপেক্ষার খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে স্পেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের তল্লাশি হবে বাছাইয়ের ভিত্তিতে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তা ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে। তবে মাদ্রিদে শনিবার পৌঁছানো এক যাত্রী জানিয়েছেন, তাদের ফ্লাইটের সব যাত্রীকেই পাসপোর্ট দেখাতে হয়েছে।

এর আগে, গত সপ্তাহে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করা বেশিরভাগ অভিবাসীকে কয়েক দিনের মধ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ সময় সমুদ্রপথে প্রবেশের চেষ্টায় প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ অপ্রাপ্তবয়স্ক এখনও সেউতায় অবস্থান করছে।

এদিকে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে মরক্কো থেকে সেউতায় ফের বড় ধরনের প্রবেশের আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে বেশ কিছু পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। বিবিসি আরবি জানিয়েছে, এসব পোস্টের কয়েকটি গ্রুপের অনুসারীর সংখ্যা এক লাখের বেশি। তবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হলেও গত সপ্তাহের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে বলে তারা মনে করছে না।

ঠিক কী কারণে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক অভিবাসী সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ইইউর অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার দাবি করেছেন, অপরাধী চক্রের ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে। স্পেন সরকারও এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত।

উল্লেখ্য, মরক্কো ও স্পেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সেউতা ও মেলিলা নিয়ে কূটনৈতিক বিরোধ রয়েছে। উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত এই দুই ভূখণ্ডের ওপর স্পেনের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে না মরক্কো।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ