• ঢাকা
  • | |
Alifhostbd

শিমের দামে ত্রিপল সেঞ্চুরি, চড়া মাছের বাজারও


FavIcon
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 7, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

বর্ষাকালের সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে প্রায় সব রকমের সবজি। শুধু সবজিই নয়, মাছ, মাংসও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। সবজির মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে শিমের দামে; বাজারে শিম এখন রূপ নিয়েছে মহার্ঘ্য এক পণ্যে। কেজিপ্রতি দাম ছুঁয়েছে প্রায় ৩০০ টাকা।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, অন্য সবজির ভিড়ে শিম কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা দরে। শিমের এমন আকাশছোঁয়া দাম দেখে বাজারে আসা ক্রেতাদের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। চড়া দাম রয়েছে কাঁচামরিচেও পোয়া (২৫০ গ্রাম) ৭৫ টাকা, অর্থাৎ কেজি নিলে দাম পড়ছে ৩০০ টাকা। 

এসব বাজারে বেগুন প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৮০ টাকা, টমেটো ১৪০ থেকে ২০০ টাকা এবং করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢেঁড়শ, কাকরোল ও ঝিঙা মানভেদে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৪০ টাকা এবং আলু ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বটবটি ১০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক হালি লেবু ১৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনেপাতা ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চালকুমড়া ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির এই চড়া বাজারে সাধারণ মানুষের ভরসা শাকের আঁটিতেও খুব একটা স্বস্তি নেই। কলমি, পাট ও মূলা শাকের আঁটি ১৫ থেকে ২০ টাকায় পাওয়া গেলেও পুঁই ও লাউ শাকের আঁটি কিনতে পকেট থেকে খসছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

সবজি বাজার পেরিয়ে মাছের বাজারে পা রাখলেও স্বস্তি মেলার উপায় নেই। একসময় 'গরিবের মাছ' হিসেবে পরিচিত পাঙ্গাশ বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। 

বাজারে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক কেজি চাষের শিং মাছ (আকারভেদে) ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, রুই মাছ (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কৈ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১ হাজার ৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৪০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে এক ডজন মুরগির লাল ডিম ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম এক ডজন ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাজারগুলোতে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে টানা বৃষ্টি ও নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার কারণে মরিচ ও সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মাঠপর্যায়ে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে তালতলা বাজারের সবজি বিক্রেতা ইউনুস মিয়া বলেন, বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় কাঁচামরিচসহ সব সবজির দাম বেড়েছে। তবে কাঁচামরিচ আমদানি হওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহে দাম আরও কমে আসবে।

বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী কবির হোসেন বলেন, বাজারে এসে হিসাব মেলানো যাচ্ছে না। ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে সবজি নেই। কোনো পণ্যের দাম বাড়লে আর কমছে না।

বাজারের এমন টালমাটাল অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তানভীর ইসলাম রবিউল হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বাজারে এলে মাথা ঠিক রাখা দায়। সবজির দাম তুলনামূলক বেশি। শিম নাকি ২৮০ টাকা কেজি! আর মাছের যে দাম, তাতে পাঙ্গাশ কেনাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আমাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষের তো না খেয়ে থাকার অবস্থা।

আরেক ক্রেতা বলেন, দেশে বাজার মনিটরিং ভালোভাবে হচ্ছে না। বাজার ভেদে পণ্যের দাম অনেক সময় ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি নেওয়া হয়। মমতাজ বাজারে যে সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা সেটি হাজি বাজারে দিচ্ছে ৭০ টাকায়। বাজার সিন্ডিকেট খুবই শক্তিশালী।

প্রশাসনের উচিত ভালো করে বাজার মনিটরিং করে তাদেরকে রুখে দাও। তাহলে আমরা ন্যয্যমূলে সবকিছু কিনতে পারব।

তবে দাম বাড়ার পেছনে বর্ষার বাজে আবহাওয়া ও সরবরাহ ঘাটতিকে দায়ী করছেন বিক্রেতারা।  তারা বলেন, এখন বর্ষাকাল চলছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার কারণে সবজি ও মাছের সরবরাহ অনেক কমে গেছে। আমরা আড়ত থেকেই চড়া দামে মাল কিনছি, তাই বেশি দামে বিক্রি করা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আশা করি দাম আবার নিচে নেমে আসবে।

ছোলমাইদ বাজারে মাছ বিক্রি করেন সোহেল রানা। তিনি বলেন, সব বাজারেই এখন মাছের ঘাটতি আছে। মাছ কম ওঠে তাই আড়ত থেকেই বেশি দাম দিয়ে কিনে আনতে হয়। গাড়ি ও দোকান ভাড়া তারপর আমাদের পরিশ্রমের মূল্য সবকিছুর জন্য আমাদের একটু বেশি দামেই বিক্রি করতে হয়।

মমতাজ কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মাসুদ বলেন, সবজি পচনশীল পণ্য। ৫০ কেজি মাল আনলে সেগুলো সব বিক্রি করা যায় না। অন্তত ৫ থেকে ৭ কেজি নষ্ট হয়। তাই একটু বাড়তি দামে বিক্রি না করলে কি লস দিয়ে ব্যবসা করব? আমাদেরও তো পরিবার আছে। দোকান ভাড়া দিতে হয়।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ