ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন অনন্য এক প্রতিষ্ঠান: সংসদে শ্রদ্ধা
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 12, 2026 ইং
সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে একজন ‘প্রজ্ঞাবান সংসদীয় ব্যক্তিত্ব’, ‘সফল আইনজীবী’ ও ‘আপাদমস্তক ভদ্রলোক’ হিসেবে অভিহিত করে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতীয় সংসদ। শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় বক্তারা বলেন, তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদই ছিলেন না, বরং নিজেই ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান।
রোববার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিনে সাবেক স্পিকারের মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘‘ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন ‘সেলফ-মেড ম্যান’। নিজের মেধা দিয়ে তিনি বড় হয়েছেন।
তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন যিনি কোনো দিন নির্বাচনে হারেননি। গণতন্ত্রের প্রতি তার ছিল অবিচল আস্থা।
’’ মন্ত্রী আরও জানান, শেষ মুহূর্তেও তিনি দলের প্রতি অনুগত ছিলেন এবং সবসময় বলতেন, ‘নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রে পৌঁছানো যায় না’।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘‘আমরা তাকে সবসময় ‘সুটেড-বুটেড’ আপাদমস্তক একজন জেন্টলম্যান হিসেবে দেখেছি। তিনি আমাদের পিতৃতুল্য ছিলেন, কিন্তু কখনোই ‘আপনি’ ছাড়া কথা বলতেন না। সাবেক স্পিকারদের যেভাবে সংসদ ভবনে দাফন করা হয়, প্রথা অনুযায়ী ওনাকেও সেখানেই দাফন করা হবে। তিনি আমাদের মাঝে না থাকলেও এই সংসদেই থাকবেন।’’
বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে জমির উদ্দিন সরকারের মহানুভবতার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলে যখন আমরা আইনের যাঁতাকলে পিষ্ট ছিলাম, তিনি আমাদের মজলুম নেতাদের পক্ষে আদালতে বারবার দাঁড়িয়েছেন। আমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ফি দিতে চাইলেও তিনি এক টাকাও নেননি। তিনি বলতেন, এটি তার নৈতিক দায়িত্ব।’
প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দোকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ঢাকা হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে দূর থেকে হ্যাট, কোট আর ছাতা হাতে কাউকে দেখা গেলেই বোঝা যেত তিনি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তিনি তার মক্কেলদের বিষয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস ছিলেন।’
আলোচনা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘জাতি আজ এক মহান রাজনীতিক ও সাদা মনের মানুষকে হারিয়েছে। তিনি এই চেয়ারে বসে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সংসদ পরিচালনা করেছেন। তার বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি।’
শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে মরহুমের সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামানের পরিচালনায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার রোববার ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
আপনার মতামত লিখুন :