ইসরাইল ও লেবাননের কাঠামোগত চুক্তিতে সই
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 27, 2026 ইং
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা আলোচনার পর অবশেষে একটি কাঠামোগত চুক্তিতে সই করেছে ইসরাইল ও লেবানন। ওয়াশিংটনে এটি স্বাক্ষরিত হয়। শুক্রবার (২৬ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াদ বলেন, ‘চুক্তিটি হবে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা পুনরুদ্ধারের পথে প্রথম পদক্ষেপ।’
এদিকে ইসরাইলি এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, ১৪ দফার এ চুক্তি অনুযায়ী হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত আইডিএফ সেনারা দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে অবস্থান করবে।
তবে আইডিএফ নিরাপত্তা অঞ্চলের বাইরের দুটি এলাকা থেকে পর্যায়ক্রমে সরে যাবে এবং লেবাননের সেনাবাহিনী সেখানে প্রবেশ করবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রুবিও বলেন, ‘এটি কেবল শুরুর শুরু। সামনে এখনো অনেক কাজ বাকি। আজকের দিনটি হলো প্রথম পদক্ষেপ, আর প্রথম পদক্ষেপটিই কখনো কখনো সবচেয়ে কঠিন হয়ে থাকে।’
চুক্তি প্রসঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত এই চুক্তি ইসরায়েলি বাহিনীকে দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান বজায় রাখার আইনি সুযোগ দেবে। অন্যদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন একে সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের পথ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “লেবাননের নাগরিকরা এবার নিজ ভূমিতে ফিরবেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হিজবুল্লাহর মতো অন্য কোনো অংশীদার থাকবে না।”
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর এই সংঘাত লেবাননেও ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলি বিমান ও স্থল অভিযানে লেবাননে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। চুক্তি সইয়ের পর ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার দাবি করেন, “ইরান ও হিজবুল্লাহ বিদায় নিয়েছে। এখন ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শান্তির পথ তৈরি হয়েছে।”
কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও মাঠপর্যায়ে এখনো পুরোপুরি থামেনি সংঘাত। শুক্রবারই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, লেবাননে অভিযানে হিজবুল্লাহর এক সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। একই দিনে দক্ষিণ লেবাননের মনসুরি শহরে লিফলেট বিতরণ করে বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এলাকা ছাড়ার এমন নির্দেশ এটাই প্রথম, যা এই চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :