ডেনমার্কে দেশজুড়ে ‘আজান’ নিষিদ্ধের উদ্যোগ
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 26, 2026 ইং
ইউরোপের অন্যতম কঠোর অভিবাসন নীতির দেশ ডেনমার্কে এবার দেশজুড়ে ইসলামের পবিত্র আহ্বান আজান মাইকে প্রচার নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডেনমার্কের বর্তমান সরকারের দাবি, প্রকাশ্য স্থানে আজানের প্রচার দেশটির সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি সমাজে এক ধরনের ইসলামীকরণ তৈরি করছে। এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দেশটিতে অভিবাসন, সামাজিক একীকরণ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ডেনমার্কের অভিবাসন মন্ত্রী মর্টেন বুদসকভ সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, দেশজুড়ে আজান প্রচার আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখতে সরকার পুনরায় তদন্ত শুরু করবে। এর আগে ২০২০ এবং ২০২৫ সালেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবেই এই তৃতীয় প্রচেষ্টা শুরু হলো।
সংবাদ সংস্থা ‘রিৎসাউ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট দলীয় মন্ত্রী বুদসকভ বলেন, আজানের শব্দ ডেনমার্কের ছাদ ছুঁয়ে যাক, তা হতে পারে না। ডেনমার্কে এর কোনো স্থান নেই। আপনি যখন ডেনমার্কের কোনো রাস্তায় হাঁটবেন, তখন আপনার মনে এই সংশয় জাগা উচিত নয় যে-আপনি ডেনমার্কে আছেন নাকি ইসলামাবাদের কোনো উপশহরে চলে এসেছেন।
সাধারণত মুসলমানদের নামাজের জন্য দিনে পাঁচবার মসজিদের মিনার থেকে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে আজান দেওয়া হয়। অভিবাসন মন্ত্রীর মতে, ডেনমার্কের সংবিধানে বর্ণিত ধর্মীয় স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রেখে কীভাবে দেশব্যাপী এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা যায়, তা পর্যালোচনা করছে সরকার। তিনি দাবি করেন, প্রকাশ্য স্থানে ইসলামের এই প্রকাশ্য রূপ ডেনিশ সংস্কৃতির ওপর অতিরিক্ত প্রভাব ফেলছে।
যদিও ডেনমার্কে এখনও দেশব্যাপী কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে দেশটির বেশ কিছু এলাকায় ইতিমধ্যেই আজান প্রচারের ওপর পরোক্ষ কড়াকড়ি রয়েছে। রাজধানী কোপেনহেগেনে কঠোর শব্দদূষণ নীতিমালার কারণে মসজিদগুলো লাউডস্পিকারে আজান দিতে পারে না।
কোপেনহেগেনের গ্র্যান্ড মস্ক (প্রধান মসজিদ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে পূর্ববর্তী একটি চুক্তির আওতায় এমনিতেই বাইরে লাউডস্পিকারে আজান প্রচার করে না। নিষেধাজ্ঞার সমর্থকরা যুক্তি দিচ্ছেন যে, বর্তমান স্মার্টফোন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে নামাজের সময় জানতে লাউডস্পিকারের কোনো প্রয়োজন নেই। তাদের দাবি, এটি কোনো ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ নয়, বরং এটি শব্দদূষণ এবং সামাজিক পরিবেশ রক্ষার একটি বিষয়।
গত কয়েক বছর ধরেই প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নেতৃত্বে ডেনমার্ক ইউরোপের সবচেয়ে কঠোর অভিবাসন নীতি বজায় রেখেছে। দেশটির বিতর্কিত ‘ঘেটো’ আইনের আওতায় অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলো থেকে নাগরিকদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া, ডেনমার্কে আশ্রয়প্রার্থীদের থাকা-খাওয়ার খরচ মেটাতে তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র বা অলংকার জব্দ করার মতো কঠোর আইনও রয়েছে।
২০১৫ সালের ইউরোপীয় অভিবাসী সংকটের সময়ও ডেনমার্ক তার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল, যা দেশটির সরকার তাদের সফল নীতি হিসেবে দাবি করে আসছে। আজান নিষিদ্ধের এই নতুন উদ্যোগ দেশটির কট্টরপন্থী রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: ফার্স্টপোস্ট
আপনার মতামত লিখুন :