সৌদির নিরাপত্তায় তুরস্ক-পাকিস্তান, ইরানকে শক্ত বার্তা
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 8, 2026 ইং
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সৌদি আরবের দিকে আরও ঘনিয়ে আসার মধ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষায় মুসলিম বিশ্বের দুই শক্তিশালী সামরিক দেশ তুরস্ক ও পাকিস্তানকে যুক্ত করেছে সৌদি আরব।
শুক্রবার মক্কায় সৌদি আরবের সঙ্গে ‘ন্যাটো-ধাঁচের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করেছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। এর ফলে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সহযোগিতা এখন যৌথ প্রতিরক্ষা জোটে রূপ নিল। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এর ফলে এতদিন সংঘাত থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা পাকিস্তান ও তুরস্কও সম্ভাব্যভাবে ইরান যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদারত্বের বাইরে এই চুক্তি দেশটির জন্য নতুন একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা স্তর তৈরি করেছে। বিশেষ করে তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় মিত্রদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায়, তা নিয়ে আঞ্চলিক সন্দেহ বাড়ার মধ্যেই এ চুক্তি হলো।
চুক্তিটি সৌদি আরবের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকির বিরুদ্ধে সুন্নিপ্রধান একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক অবস্থান তৈরি করেছে। একই সময়ে ইসরায়েল পুরো অঞ্চলে তার সামরিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে এবং প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তান ও তুরস্ক—দুই দেশেরই ইরানের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে। ফলে যুদ্ধ যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করার পেছনে উভয় দেশেরই গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে। পাকিস্তানকে তার বড় শিয়া জনগোষ্ঠী এবং ইরানের সঙ্গে সংবেদনশীল সম্পর্ক সামলাতে হয়। অন্যদিকে, তুরস্ক ও ইরান বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদ নিয়ে তাদের অভিন্ন উদ্বেগ রয়েছে।
চলমান যুদ্ধে ইরান সৌদি আরবে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল বেসামরিক অবকাঠামো, জ্বালানি স্থাপনা ও মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা। ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের ওপর ইরানের সরাসরি হামলা অনেকটা কমে এলেও ইয়েমেন ও ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
যুদ্ধের অন্যতম সোচ্চার বিরোধী সৌদি আরব শুরু থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাত আরও বাড়ানো থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিভিন্ন দিক থেকে সৌদি আরবের ওপর হামলা অব্যাহত থাকায় দেশটির কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সমর্থনে ইরাক ও ইয়েমেনে ইরানপন্থি মিলিশিয়ারা বড় ধরনের সমন্বিত হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে রিয়াদ।
এদিকে, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। তেহরানের হুঁশিয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার মক্কায় সই হওয়া সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি তেহরানের প্রতি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সৌদি আরবে আবারও বড় ধরনের হামলা হলে চুক্তিটি কার্যকর হয়ে পাকিস্তান ও তুরস্ককে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা চলমান যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। সূত্র: সিএনএন
আপনার মতামত লিখুন :