• ঢাকা
  • | |
Alifhostbd

গণপরিবহনে আজ থেকে জিপিএস বাধ্যতামূলক


FavIcon
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 1, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আজ শনিবার (১ আগস্ট) থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) ডিভাইস সংযুক্তি ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। জিপিএস সংযুক্ত না থাকলে নতুন রেজিস্ট্রেশন এবং ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে না।

সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য গণপরিবহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, রুট ব্যবস্থাপনা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো। 

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, জিপিএস সংযুক্ত ও সচল না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে না। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বিভিন্ন কম্পানির গাড়িতে জিপিএস সংযোজনের বিষয়ে এরই মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে। তবে আজ ১ আগস্ট থেকেই সব গাড়িতে এটি পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হবে না। এ জন্য আরো কিছু সময় প্রয়োজন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কারও করতে হবে। সুশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেই এর সুফল পাওয়া সম্ভব।

বিআরটিএর চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, নতুন কোনো গাড়ি নিবন্ধনের জন্য এলে সেটিতে জিপিএস সংযুক্ত থাকতে হবে। একইভাবে ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রেও জিপিএস থাকা বাধ্যতামূলক। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও তৈরি করছে, যাতে সহজেই কোনো গাড়িতে জিপিএস সংযুক্ত ও সচল রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা যায়।

জিপিএস ব্যবহারে যেসব সুবিধা হতে পারে
জিপিএস ব্যবস্থার মাধ্যমে বাসের অবস্থান, গতি ও চলাচলের রুট পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে। এতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, অনুমোদিত রুটের বাইরে চলাচল এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে গাড়ি থামানোর মতো বিষয়গুলো তদারক করা সহজ হতে পারে।

দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও জিপিএসের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কোনো বাস কখন কোথায় ছিল, কী গতিতে চলছিল এবং কোন রুট অনুসরণ করছিল—এসব তথ্য সংরক্ষিত থাকলে দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো ঘটনার তদন্তে তা ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থা ও যাত্রীবান্ধব মোবাইল অ্যাপ চালু করা হলে যাত্রীরা বাসের অবস্থান এবং সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময় জানতে পারবেন। এতে অপেক্ষার সময় কমানোর পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

জিপিএস ব্যবস্থায় বাস মালিকরাও তাদের গাড়ির অবস্থান, রুট, গতি ও চলাচলের সময় পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এতে বহর ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি অপচয় কমানো এবং রুটের বাইরে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতে পারে। বাস চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দ্রুত অবস্থান শনাক্ত করতেও এ প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে।

পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধেও কোনো অভিযোগ উঠলে জিপিএসের তথ্যের মাধ্যমে তা যাচাই করা সহজ হতে পারে। দুর্ঘটনা, ডাকাতি, হামলা বা যান্ত্রিক ত্রুটির মতো জরুরি পরিস্থিতিতেও অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত সহায়তা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রযুক্তি সংযোজন করলেই কাঙ্ক্ষিত সুফল আসবে না। ডিভাইস সার্বক্ষণিক সচল রাখা, কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য পর্যবেক্ষণ, নিয়মিত তদারকি এবং কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কাঠামোগত সংস্কারও প্রয়োজন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সুফল আসবে না; এতে একটি ফাঁক থেকে যাবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কার করতে হবে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহারও করতে হবে।

এদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ ও লক্কড়ঝক্কড় যানবাহনে জিপিএস ডিভাইস সংযোজন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে বিশ্লেষকদের। তাদের মতে, জিপিএসের পাশাপাশি গণপরিবহনের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে তবেই এ উদ্যোগের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ