• ঢাকা
  • | |
Alifhostbd

মরিচের কেজি ৪০০, শতকের ঘরে সবজি


FavIcon
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 31, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

দেশজুড়ে টানা বৃষ্টি ও কিছু এলাকায় বন্যার পর থেকেই অস্থিরতা চলছে নিত্যপণ্যের বাজারে। এরমধ্যে সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে কাঁচামরিচের দাম। কিছুদিন বাদেই পেরিয়ে যাচ্ছে শতকের একটি করে ধাপ। এছাড়া নতুন করে বাড়ছে পেঁয়াজ ও ডিমের দাম। আর সবজির দাম চড়া হয়ে আটকে আছে দুই সপ্তাহ ধরেই। অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি একশো টাকার আশেপাশে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি ও কিছু নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার কারণে মরিচ ও সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মাঠপর্যায়ে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ছিল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। এখন বাজারে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়।

শুধু কাঁচামরিচই নয়, অন্যান্য সবজির দামও কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এসব বাজারে বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৮০ টাকায়, টমেটো কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১৪০ টাকা।

পটল, ঢ্যাঁড়শ, কাকরোল ও ঝিঙা মানভেদে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। পেঁপে ৪০ টাকা এবং আলু ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক হালি লেবু ১৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনেপাতা ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২২০ কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০/৫০ টাকায়, চাল কুমড়া ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস এবং কেপসিকাম ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

লাল শাক আঁটিতে ১০ টাকা বেড়ে ২৫ টাকা, লাউ শাক আঁটি ৫০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ৪০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্ষা মৌসুমে সবজির দাম কিছুটা বাড়া স্বাভাবিক হলেও কাঁচামরিচ ৪০০ টাকায় ওঠা স্বাভাবিক নয়। অসাধু সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট রোধে এখনই জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাজার তদারকি টিমগুলোর মাঠে নামা জরুরি।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর মালিবাগ বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী সাদিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত তিন দিন যাবৎ সবজির দাম অতিরিক্ত বেশি যাচ্ছে। কিছুদিন আগে বৃষ্টির ছিলো, এখন সেভাবে বৃষ্টি নেই, তবুও দাম অতিরিক্ত বেশি। আজকে বাজারে বেগুন দেড়শো টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কাঁচা মরিচ ৪০০ টাকা ছুঁই ছুঁই। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে মালের সরবরাহ কম, কারণ বৃষ্টিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাজারে এখন বলতে গেলে দুই একটা সবজি ১০০ টাকার নিচে, বাকি সব ১০০ টাকার উপরে। এত বেশি দামে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য সবজি কিনে খাওয়া কঠিন। 

মিরপুরের সবজি বিক্রেতা দেলোয়ার জানান, আড়তগুলোতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে, এ কারণে সবকিছুর দাম বেড়েছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী আতিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে এসে হিসাব মেলানো যাচ্ছে না। ১০০ টাকার নিচে মানসম্মত কোনো সবজি নেই। আর কাঁচামরিচ তো এখন বিলাসিতার বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৫০ টাকার নিচে মরিচ কেনাই যাচ্ছে না।

বাজারে সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে এক ডজন মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়, হাঁসের ডিম এক ডজন ২০০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাজারগুলোতে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। ইলিশ ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি মাছ ১২০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ৩২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায়, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ টাকায়, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৪০০ টাকায় এবং পাঁচমিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।  

মোহাম্মদপুর টাউন হলের মাছ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন জানান, বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম বেশ চড়া। রূপচাঁদা (সাদা) ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, লাল কোরাল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, সামুদ্রিক সুরমা ৭০০ টাকা এবং টুনা মাছ ৮৫০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজার ও মাছের আকারের ওপর ভিত্তি করে এসব দামে কিছুটা তারতম্য হতে পারে বলে তিনি জানান।

মাছ কিনতে আসা রুবেল আহমেদ নামের এক ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, ‘মাছের দাম নাগালের বাইরে। প্রতিটি মাছের দামই বেড়েছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্তরা খুব কষ্টে আছে।’

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ