দুর্নীতি'র বরপুত্র গাজীপুর ইইডি নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফুর
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 14, 2026 ইং
|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর (ইইডি)র গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আসিফুর রহমানের অনিয়ম-দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য, অতিরিক্ত বিল, ভুয়া বিল দিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তিনি অনেক সময়ে দাপট দেখিয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেল ও সাবেক গাজীপুরের এমপি মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ও ইইডির সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মীর মোয়াজ্জেম হোসেনকে দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ব্যবহার ও সুবিধা নিয়ে করেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়।
সূত্র জানায়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন নস্যাৎ করতে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের পিছনে তিনি ব্যায় করেছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাাওয়ার পর সপ্তাহ খানিক চুপচাপ থাকলেও বর্তমানে তিনি আবারও স্বমহিমায় উদ্ভাসিত আছে বলে জানাযায়।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন পরেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন তিনি। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বর্তমান সরকার তাকে বদলি করতে পারিনি। অনিয়ম, দুর্নীতির দায়ে মন্ত্রণালয়ও কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
জানা গেছে, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী- উপমন্ত্রী নামেও একাধিক মামলা হয়েছে। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী আস্থাভাজন হয়েও গাজীপুরের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে আরাম-আয়েশে অফিস করছেন। সাবেক প্রধান প্রকৌশলীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে গেছেন। সেই সিন্ডিকেট মাধ্যমে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে গাজীপুর ইইডিকে দুর্নীতির আখড়া তৈরি করেছেন।
সাবেক এক প্রধান প্রকৌশলীর সুবিধা নিয়ে বাগিয়ে নেন ঢাকার পাশের গুরুত্বপূর্ণ জেলা গাজীপুরের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব কাঁদে নিয়ে কোটি কোটি টাকা মালিক বনে গেছেন তিনি।
সাবেক এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আশীর্বাদে প্রধান প্রকৌশলী এবং তার সিন্ডিকেটের মধ্যে গড়ে তোলা সদস্যদের নির্ধারিত পারসেন্টেজের বিনিময়ে টেন্ডার আহ্বান, ডিজাইন, ড্রয়িং ছাড়া টেন্ডার আহ্বান, প্রত্যেক ঠিকাদারের কাছ থেকে ডিজাইনের জন্য টাকা আদায়, টাকা ছাড়া কোনো ডিজাইন না দেয়া (এতে ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারেন না), অতিরিক্ত টাকা দিয়ে রিভাইজ এস্টিমেট পাস করা, চলতি বিল উত্তোলনে ৫ শতাংশ ঘুষ আদায়, চূড়ান্ত বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত অংকের টাকা আদায়, আগে ঘুষ- আগে বিল পাস এবং বেশি ঘুষে বিল দ্রুত পাস করা, উন্নয়নের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম তালিকাভুক্তিতে ৫ থেকে ১০ শতাংশ ঘুষ আদায়। আর এই কাজগুলো করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলী জানান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে গত ১৫ বছর ধরে গড়ে উঠা লুটপাটের সহযোগী হাসিনার অলিগার্কদের মাধ্যমে সুবিধা নিয়ে বনে গেছেন কোটি কোটি টাকা মালিক। রাজধানীর উত্তরায় রয়েছে প্লট- ফ্লাট ও হয়েছেন গাড়ির মালিকও। নামে বে-নামে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন এই প্রকৌশলী। প্রতিদিন অফিস করছেন উত্তরার দক্ষিণ খান থেকে গাজীপুর অফিস করেন।
সূত্র জানায়, শিক্ষা খাতের উন্নয়ণে সরকার সর্বাধিক বাজেট বরাদ্দ প্রদান করে থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র সরবরাহের মাধ্যমে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এতেই অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির আখড়া তৈরি করেছেন তিনি। যারা প্রধান প্রকৌশলীর আশেপাশে থাকেন তারাই কোটি কোটি টাকা বনে যান। তারা ঐ সরকারের সময়েও সুবিধাবাদী। এখনও তারাই সুবিধাজনক অবস্থায় রয়ে গেছেন।
গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আসিফুর রহমানের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ায় তার বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) মো. তারেক আনোয়ার জাহেদীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কল এবং খুদেবার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলেও তার পক্ষ থেকেও কোনো সাড়া বা উত্তর পাওয়া যাইনি।
আপনার মতামত লিখুন :