• ঢাকা
  • | |
Alifhostbd

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা


FavIcon
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 11, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

নিম্নচাপ ও মৌসুমিবায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির পর এবার সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ বন্যা দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এফএফডব্লিউসি জানায়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খোয়াই, মনু ও কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্ট ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় সুরমা, কুশিয়ারা ও মনু নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, কুশিয়ারা ও সুরমা নদী-সংলগ্ন সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। পাশাপাশি সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই-কংস নদীর পানিও কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের সাতটি জেলা বন্যাকবলিত। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও আটটি জেলা বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার ইতোমধ্যে বন্যার কবলে পড়লেও সিলেট ও সুনামগঞ্জকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলার তালিকায় রাখা হয়েছে।

এদিকে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারের জনজীবন বিপর্যস্ত। পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। 

এর মধ্যে সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি উপচে তলিয়েছে বান্দরবানের বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ ভুগছেন খাদ্য সংকটে। চট্টগ্রামের সাথে বন্ধ রয়েছে সড়ক যোগাযোগ। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসন এবং দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনী ও বিজিবি ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে। তবে কিছু এলাকায় পৌঁছায়নি ত্রাণ সহায়তা।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়িসহ নিচু এলাকাগুলো টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে এখনও জলাবদ্ধ। বাঘাইছড়িতে পাহাড়ের মাটি ধসে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাগড়াছড়ি, দীঘিনালা হয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। 

থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে খাগড়াছড়ির জলমগ্ন এলাকার পরিস্থিতি। নিচু এলাকা থেকে পুরোপুরি নেমে গেছে চেঙ্গী নদী ও আশপাশের ছড়া-খালের পানি। শুরু হয়েছে যান চলাচল। তবে, ছোট মেরুং ইউনিয়নে এখনও জলমগ্ন হাজারও পরিবার। 

এদিকে, ভারী বৃষ্টি কমলেও এখনও প্লাবিত কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, রামুসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিমজ্জিত বিস্তীর্ণ এলাকা। তবে ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করেছে। সংকট দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির। চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে বাসিন্দাদের। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। 

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ