লক্ষ্মীপুরে রাত নামলেই বের হচ্ছে ভয়ঙ্কর শামুক
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 3, 2026 ইং
অন্ধকার রাত। পানিতে নয়, ডাঙার প্রতিটি পদক্ষেপেই চোখে পড়ছে একের পর এক ভয়ংকর ও অদ্ভুত আকৃতির শামুক। মাটিতে, রাস্তায়, বাড়ির আঙিনায়, গাছপালা কিংবা ময়লার ভাগাড়ে-সবখানেই যেন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে শত শত শামুক-সদৃশ প্রাণী। আঠালো শরীর নিয়ে ধীরে ধীরে চলাফেরা করছে তারা, আর চলার পথে ছড়িয়ে যাচ্ছে রসালো পদার্থ। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে এদের বিচরণ, আর গভীর রাত পর্যন্ত চলে এদের দাপট।
লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক মাস ধরে এ ধরনের প্রাণীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুল-ফলসহ বিভিন্ন সবজি গাছের কচি পাতা ও লতাপাতা খেয়ে ফেলছে এসব ভয়ংকর প্রাণী। বাড়ির আঙিনায় শসা, তরই, শিম ও বিভিন্ন ঔষধি গাছের চাষ করে সেগুলো রক্ষা করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। রাতের বেলায় এসব প্রাণী গাছের পাতা ও লতা গিলে খাচ্ছে। দ্রুত বংশবিস্তার করায় দিন দিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে, যা কৃষিজ ফসলের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের বন্যার পর থেকেই লম্বা আকৃতির এ অদ্ভুত প্রাণীগুলোর দেখা মিলতে শুরু করে। তাদের ধারণা, বন্যার পানির সঙ্গে অন্য এলাকা থেকে এ প্রাণীগুলো এখানে চলে এসেছে। এর আগে এলাকায় এমন প্রাণী কখনো দেখা যায়নি।
বাসিন্দারা জানান, এসব প্রাণীর আঠালো বা বিষাক্ত লালা শরীরে লাগলে চুলকানিসহ ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এ কারণে রাতের বেলায় চলাফেরায় আতঙ্ক কাজ করছে সবার মধ্যে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরা। এতে তারা চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
উপদ্রব থেকে বাঁচতে কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে শামুকগুলো সংগ্রহ করে পলিথিনে ভরে অন্যত্র ফেলে দিচ্ছেন। তবে ভুক্তভোগীরা এর একটি স্থায়ী সমাধান চান।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান ইমাম জানান, এটি এক ধরনের ক্ষতিকর শামুক জাতীয় প্রাণী, যা কৃষিজ ফসলের জন্য সরাসরি হুমকি। এসব প্রাণী গাছের কচি পাতা ও লতা খেয়ে ফেলে। এদের দমন করতে প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপায়েও নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘শামুকগুলো সংগ্রহ করে পলিথিনে ভরে দূরে কোথাও ফেলে দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া বাড়ির আঙিনায় ডিমের খোসা ও কাঠের গুঁড়া ছিটিয়ে রাখলে এদের উপদ্রব কিছুটা কমানো সম্ভব।’
আপনার মতামত লিখুন :