• ঢাকা
  • | |
Alifhostbd

যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ‘এয়ারফোর্স ওয়ানের’ মত বিমান বানাতে পারত না!


FavIcon
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 2, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

যুক্তরাষ্ট্রের বহরে যুক্ত হওয়া কাতার সরকারের উপহার দেওয়া বিলাসবহুল নতুন ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ উড়োজাহাজে প্রথমবারের মতো ভ্রমণ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বুধবার (২ জুলাই) নর্থ ডাকোটা ভ্রমণের সময় তিনি এই উড়োজাহাজটি ব্যবহার করেন। যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে সাংবাদিকদের কাছে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র নিজে থেকে এমন একটি উড়োজাহাজ তৈরি করতে পারত না। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এর পেছনে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, তা মার্কিন প্রশাসন করতে রাজি হতো না।

প্রায় ৪০ কোটি ডলার মূল্যের বোয়িং ৭৪৭-৮আই (ভিসি-২৫বি ব্রিজ) মডেলের এই অত্যাধুনিক উড়োজাহাজটি মূলত কাতারের রাজপরিবারের ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। নতুন এই এয়ারফোর্স ওয়ানের বাহ্যিক রূপেও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগের সাদা ও হালকা নীলের পরিবর্তে এর নিচের অংশ গাঢ় নীল, মাঝখানে একটি সরু লাল দাগ এবং ওপরের অংশ নীল রঙে সাজানো হয়েছে। রাজপরিবারের জন্য নির্মিত হওয়ায় আগে থেকেই এতে চরম আভিজাত্য ও উন্নত যাত্রীসুবিধা বিদ্যমান ছিল।

প্রেসিডেন্টের বহরে যুক্ত করার আগে বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে এর সম্ভাব্য সব ধরনের প্রযুক্তিগত ঝুঁকি নিরূপণ ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটসহ বহুস্তরবিশিষ্ট নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উচ্চঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে উড্ডয়নের জন্য অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। এর ফলে আকাশপথে থেকেও প্রেসিডেন্ট নির্বিঘ্নে দেশ পরিচালনার কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। ট্রাম্প একে একটি অসাধারণ ও আধুনিক সুবিধাসংবলিত উড়োজাহাজ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

এই ব্যয়বহুল উপহার গ্রহণ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নৈতিকতা, সংবিধান ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্প এসব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, এত বড় একটি উপহার প্রত্যাখ্যান করা চরম বোকামি হতো। শুরুতে এটি পেন্টাগনকে উপহার দেওয়া হলেও, মেয়াদ শেষে উড়োজাহাজটি নিজের প্রেসিডেনশিয়াল সংরক্ষণাগারে দান করার ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। জানা গেছে, বিদেশি নেতারা নতুন উড়োজাহাজে যাতায়াত করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ৩৫ বছরের পুরোনো উড়োজাহাজ ব্যবহার করতে হচ্ছিল। এতে বিরক্ত হয়ে ট্রাম্প নিজেই কাতারের রাজপরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এটি বিনা মূল্যে সংগ্রহ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের যাতায়াতের জন্য ২০১৮ সালে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে নতুন দুটি ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজ তৈরির চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু বাজেট বৃদ্ধি ও নানা জটিলতায় সেই কাজ আরও অন্তত দুই বছর পিছিয়ে গেছে। তাই স্থায়ী সমাধান হিসেবে বোয়িং ভিসি-২৫বি সেবায় যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো ভিসি-২৫এ বহরের ওপর চাপ কমাতে এবং প্রেসিডেন্টের আকাশপথে যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে গত মাসের শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত এই ‘ব্রিজ’ উড়োজাহাজটি ব্যবহার করা হবে। সূত্র: সিএনএন

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ