মাছ-মুরগি আগের দামে, সবজিতে স্বস্তি
ওপেন নিউজ ৭১
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 19, 2026 ইং
নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পরও ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও মাছের বাজারে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। আগে মতোই দাম রয়েছে। তবে ব্রয়লার ও সবজিতে অনেকটাই স্বস্তিতে ফিরেছে। মাছেরও তেমন দাম বাড়েনি। গরুর মাংসের দামও ৮০০ টাকা রয়েছে। অধিকাংশ সবজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা যায়।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
সবজির বাজারে বেগুন আকারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ও উচ্ছে ৮০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, ভেন্ডি ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা এবং গাজর ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, লতি ৮০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা ও জালি কুমড়া ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।
শাকের বাজারে লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ও লাউশাক ৩০ টাকা, কচুশাক ও কলমিশাক ১০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি ২৫ টাকা।
মিরপুর-১৩ নম্বরের ক্রেতা আকিদুল হক বলেন, শাকের মতো দু-একটি পণ্যের দাম কমলেও অধিকাংশ সবজি আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমূল্য থাকায় ক্রেতারা অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে গেছেন।
অন্যদিকে মিরপুর-২ নম্বর বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আছিয়া খাতুন বলেন, বাজারে পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে। একটি ব্যাচেলর মেসের জন্য বেশি পরিমাণে বাজার করতে হয় বলে কম দামের আশায় বিভিন্ন দোকানে দরদাম করছেন।
চালের বাজারে স্বর্ণা চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, মিনিকেট ও মোজাম্মেল চাল ৮৫ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৬০ টাকা এবং পাইজাম চাল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডালের মধ্যে দেশি চিকন মসুর ডাল ১৬০ টাকা, বড় মসুর ডাল ১০০ টাকা এবং ছোলার ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একই ধরনের ডাল সুপারশপে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মসলার বাজারে দেশি রসুন ১০০ টাকা, আমদানি করা বড় রসুন ১৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা এবং আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ছুটির দিনে সকালে এই বাজারে কেনাকাটা করতে এসে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বেসরকারি চাকরিজীবী মো. শাহিন মিয়া। তিনি বলেন, বাজারে বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম আগের মতোই বেশি রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তার ভাষ্য, আয় বাড়েনি কিন্তু সংসার চালানোর খরচ দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে মাছ, মাংস ও সবজির দাম মধ্যবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাজারে নতুন করে দাম না বাড়লেও বর্তমান উচ্চমূল্যে স্বস্তি পাচ্ছেন না বলে জানান শাহিন।
মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বকরির মাংস ১ হাজার ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা, লেয়ার ও সোনালি মুরগি ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।
বিক্রেতারা জানান, বাজেটে ব্রয়লার মুরগি, সোনালি মুরগি, ডিম ও মাছের ওপর সরাসরি এমন কোনো কর বা শুল্ক আরোপ করা হয়নি। দাম ঈদের আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। অন্যান্য বছর বাজেট দিলে এসবের দাম বাড়লেও এবার ব্যতিক্রম হয়েছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আগের দামের কাছাকাছিই বিক্রি হচ্ছে। বাজারভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও বাজেট ঘোষণার পর উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকা (জীবিত ও মৃত উপরে দাম নির্ধারণ), রুই ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা, টাকি ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম বেশি দেখা গেছে। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।
মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ী ফিরোজ মিয়া বলেন, ঈদের পর মাছের বাজার আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। সব মাছের দাম আগের মতোই আছে। আর মাছের বাজার ২০ থেকে ৩০ টাকা ওঠানামা করে। মাছের বাজারে বাজেটের প্রভাব পড়েনি।
আপনার মতামত লিখুন :