
বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হয়েছে আজ ১৭ আগস্ট। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়ে সরকার গঠন করে দলটি। ছয় মাস পূর্তিকে সামনে রেখে এখন পুরো মেয়াদের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করার পথে সরকার।
বিগত স্বৈরাচারী শাসন ও পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের পর একটি বিধ্বস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে ফের কার্যকর ও গতিশীল করাই ছিল নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে অর্থনীতি পুনর্গঠন, জনজীবনে স্বস্তি ফেরানো, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে সরকার নিয়েছে নানা উদ্যোগ।
সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা বলছেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত স্বল্পমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় গতি ফেরাতে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের প্রথম ছয় মাস মূলত প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কার, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে পুনর্গঠনের সময়। তবে এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন খাতে নেওয়া বেশ কিছু দূরদর্শী সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হয়েছে। ফলে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনকে রাষ্ট্র পরিচালনায় শৃঙ্খলা ও গতি ফেরানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমান সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন দেশের অর্থনীতি এক চরম ক্রান্তিকাল পার করছিল। ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট এবং রিজার্ভের ক্রমাবনতি ছিল নিত্যদিনের চিত্র। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যে সামান্য স্থিতিশীলতা ফিরেছিল সেটিকে পুঁজি করে বাজার চাঙ্গা করতে প্রথম দিন থেকেই কাজ শুরু করে অর্থ মন্ত্রণালয়।
দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ স্বাভাবিক করতে এবং কলকারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করতে কাস্টমস ও বন্দর কার্যক্রমে বড় ধরনের আধুনিকায়ন আনা হয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও পদ্ধতিগত বাধা দূর করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যাতে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কোনো অন্যায্য বাধার মুখে না পড়েন এবং চাঁদাবাজির শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে কঠোর আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সরকারের নেওয়া বহুমুখী ব্যবসাবান্ধব নীতি, বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে সামগ্রিক অর্থনৈতিক আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে গত ছয় মাসে দেশে নেট প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১.৭৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এটি সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের আস্থার একটি বড় প্রমাণ।
বিগত সরকারের আমলে লোকসানের অজুহাতে বন্ধ করে দেওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানাগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় দীর্ঘকাল বন্ধ থাকা ১৪টি পাটকলকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আনন্দের বিষয় হলো, এর মধ্যে নয়টি পাটকল সফলভাবে পুনঃউৎপাদন শুরু করেছে, ফলে হাজার হাজার শ্রমিকের নতুন করে কর্মসংস্থান হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তথা কূটনৈতিকভাবেও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করছে। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ জ্বালানি ও শ্রমবাজারে বহুমুখীকরণের পাশাপাশি চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াসহ প্রধান বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদার করে চলেছে।
তা-ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া সফর উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। সফরে শ্রমবাজার, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং অভিবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়।
২৪-২৬ জুন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি চীন সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এ সফরে বাণিজ্য, অবকাঠামো, কৌশলগত সহযোগিতা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। সেইসঙ্গে মালয়েশিয়া চলতি আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তাদের শ্রমবাজার ফের উন্মুক্ত করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষকের মুখে হাসি না ফুটলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়-এ নীতিতে বিশ্বাসী বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ১০ দিনের মাথায় দেশের প্রান্তিক চাষিদের অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল করতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়।
দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র কৃষকদের দুঃখ লাঘবে সরকার এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। কৃষকদের কাঁধ থেকে ঋণের বোঝা নামাতে প্রায় ১৫.৫ বিলিয়ন (১ হাজার ৫৫০ কোটি) টাকা সমমূল্যের কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এর ফলে লক্ষাধিক প্রান্তিক কৃষক নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন এবং কৃষিকাজে মনোযোগ দিতে পারছেন।
কৃষকদের কাছে সরাসরি সার, বীজ ও বিদ্যুৎ ভর্তুকি পৌঁছে দিতে ডিজিটাল ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রুখতে এ কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের ব্যাংক বা মোবাইল অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। এ কৃষক কার্ডের বিস্তারিত পরিসংখ্যান সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ বুকলেট সরকার খুব শিগগিরই প্রকাশ করতে যাচ্ছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ‘খাল খনন কর্মসূচি’কে আধুনিক রূপে পুনরুজ্জীবিত করেছে বর্তমান সরকার। শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী স্থানীয় সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় এ খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এটি শুধু সেচ সুবিধাই বাড়াচ্ছে না, গ্রামীণ কৃষিজীবী অর্থনীতিতে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাচ্ছে।
বর্তমান সরকারের একটি বড় ম্যান্ডেট হলো চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করা। স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তন আনা। জুলাই বিপ্লবে আহত ও নিহতদের কল্যাণে সরকার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো দাঁড় করিয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট নীতিগত ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া গেজেটভুক্ত ১৪ হাজার ৩৬৮ জন জুলাই যোদ্ধার (আহত) মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১৩ হাজার ৪৭৯ জনকে সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নিয়মিত মাসিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
দেশে চিকিৎসায় যাদের নিরাময় সম্ভব হচ্ছিল না, এমন ১৫৪ জন গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে (সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ইত্যাদি দেশে) পাঠানো হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার সরকার বহন করছে, যার পেছনে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩.৬৩ বিলিয়ন (৩৬৩ কোটি) টাকা। পাশাপাশি প্রায় ৩ হাজার আহত যোদ্ধার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ কল্যাণ ব্যবস্থাকে একটি স্থায়ী রূপ দিতে সরকার বিশেষ আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করছে, যাতে সরকার পরিবর্তন হলেও তাদের এ সুবিধা বন্ধ না হয়।
দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পৌঁছে দিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১,০০,০০০ (এক লাখ) ‘হেলথ কেয়ারার’ বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার মধ্যে ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে অন্তত ৮০ শতাংশই নারী কর্মী নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চিকিৎসক সংকট কাটাতে নতুন করে ৫,০০০ চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান।
কিডনি রোগীদের চরম দুর্দশার কথা বিবেচনা করে প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন এবং জেলা হাসপাতালগুলোর শয্যা ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। স্বাস্থ্য খাতের এ বিশাল মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৬৯,৪০৯ কোটি টাকার বিশাল অংক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বিগত বছরগুলোতে জাতীয় সংসদ পরিণত হয়েছিল একটি একদলীয় রাবার স্ট্যাম্পে। কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসের সংক্ষিপ্ত কার্যদিবসের মধ্যেই আইনসভা বা জাতীয় সংসদকে ফের প্রাণবন্ত, তর্ক-বিতর্কমুখর ও কার্যকর করে তুলেছে।
মাত্র ৫২টি সংসদীয় কার্যদিবসের মধ্যে জাতীয় সংসদে ১০৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। এটি বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এক অনন্য নজির। বিরোধী দলের মতামত গ্রহণ এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এ বিলগুলো আইনে পরিণত হয়েছে।
জুলাই বিপ্লবের ছাত্র-জনতার সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে (যেমন- নির্বাচন কমিশন, দুদক, বিচার বিভাগ) নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সংবিধান সংশোধন করার বৃহৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সংস্কার কার্যক্রমে শুধু রাজনৈতিক দল নয়, সুশীল সমাজ, পেশাজীবী সংগঠন, ছাত্র প্রতিনিধি ও সকল অংশীজনের মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বিগত ১৫ বছরের দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনামলের পুঞ্জীভূত অপরাধ, গুম, খুন এবং চাঞ্চল্যকর অপরাধগুলোর বিচার সম্পন্ন করতে সরকার বিচার বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে।
দেশের নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে সরকার। বেশ কয়েকটি বহুল আলোচিত ও স্পর্শকাতর ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুততম সময়ে (ফাস্ট ট্র্যাক ট্রাইব্যুনালে) সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে রায় ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
দুর্নীতি ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: দেশের বড় বড় হত্যাকাণ্ড, ব্যাংক লুট ও অর্থ পাচারের মূল হোতাদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। বিদেশে পালিয়ে থাকা আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া, মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ একাধিক উচ্চপদস্থ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা রয়েছেন।
দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা সাবেক রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম এক আসামিকে সম্প্রতি গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এটিকে সরকারের এ মেয়াদের বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার ক্ষেত্রে একটি বড় আইনি সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মূল্যস্ফীতির চাপে পিষ্ট তৃণমূল ও মধ্যবিত্ত মানুষের নিত্যদিনের কষ্ট লাঘব করতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে ডিজিটালাইজড, দুর্নীতিমুক্ত ও আরও সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষ যেন বাজারের সিন্ডিকেটের শিকার না হন এবং ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজে ক্রয় করতে পারেন, সেজন্য দেশব্যাপী আধুনিক কিউআর কোড সম্বলিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা অনেকটা নিশ্চিত হয়েছে।
দেশের সূর্যসন্তান খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারের মাসিক সম্মানী ভাতা বর্তমান সরকার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। এটি দেশের স্বাধীনতায় তাদের অসামান্য অবদানের প্রতি রাষ্ট্রীয় কৃতজ্ঞতা ও সম্মানের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।
সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে শুধু উদযাপন নয়, বরং আত্ম-মূল্যায়নের পথও বেছে নিয়েছে বিএনপি জোট সরকার। রাজনৈতিক দল ও সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সার্বিক কর্মকাণ্ডের একটি নিবিড় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দক্ষ নেতৃত্বে বিএনপি এককভাবে ২১৩টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী; ৬৮টি। বাকি আসনগুলোতে বিভিন্ন জোট, দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। এরপর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়। প্রধানমন্ত্রীসহ ৫০ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভায় চমক হিসেবে রয়েছেন ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। যারা একেবারেই নতুন।