প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 1, 2026 ইং
বিশ্বকাপ ‘বিক্রির’ পরিকল্পনা বাতিল করল ফিফা

তীব্র বিরোধিতার মুখে ফুটবল বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ফিফা। এক বিবৃতিতে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, সদস্য দেশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন একটি ইউনিটে প্রায় ২০ শতাংশ মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। এর মাধ্যমে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ তোলার লক্ষ্য ছিল সংস্থাটির।
ফিফার দাবি ছিল, এই অর্থ বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। এছাড়া সদস্য দেশগুলোর প্রতি পাঠানো এক চিঠিতে ইনফান্তিনো বলেছিলেন, প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে প্রতিটি সদস্য সংস্থা ৪ কোটি ডলার করে পাবে।
তবে পরিকল্পাটি ঘোষণার পরপরই ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউয়েফাসহ বিভিন্ন ফেডারেশন থেকে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। উয়েফার অভিযোগ, ফিফা ফুটবলের ‘আত্মা’ বিক্রি করতে চাইছে।
বৃহস্পতিবার উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশ সর্বসম্মতিক্রমে বিশ্বকাপ বিক্রির প্রস্তাব প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের ভাষ্য, ‘বিশ্বকাপ কোনো বিনিয়োগ পণ্য হতে পারে না।’
উয়েফার পর উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে। শুক্রবার এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) জানায়, তারাও উয়েফা ও কনকাকাফের অবস্থানের সঙ্গে একাত্ম।
তিন কনফেডারেশনের সদস্য দেশ মোট ১৪৩টি। যা ফিফার ২১১ সদস্যের হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ। ফলে প্রস্তাবটি অনুমোদনের সম্ভাবনা কার্যত সেখানেই শেষ হয়ে যায়।
এ অবস্থায় শুক্রবার রাতে বিবৃতি দিয়ে বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা বাতিলের কথা বলেন ইনফান্তিনো।
“সব পক্ষের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনার পর স্পষ্ট হয়েছে, এই প্রকল্প এমন বিভাজনের সৃষ্টি করেছে, যা এর মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই ফুটবলকে একত্রিত করা এবং উন্নত করা। তাই এই প্রস্তাব আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।”
তবে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নের জন্য অর্থায়নের বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি।
“আগ্রহী সব পক্ষকে আবার আলোচনায় এনে বিশেষ করে যেসব দেশে ফুটবলের সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন প্রয়োজন, সেখানে কীভাবে আরও বিনিয়োগ করা যায়, সেই পথ খুঁজব।”
এই বিষয়ে বিতর্কের প্রভাব পড়েছে ফিফার ভেতরেও। ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদত্যাগ করে পরিকল্পাটিকে ‘ফুটবলের জন্য খারাপ চুক্তি’ বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুর অভিযোগ করেন, পুরো উদ্যোগটি ছিল ‘একজন ব্যক্তির প্রকল্প’ এবং এ বিষয়ে ফিফার কর্মীদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
আগামী বছর ফিফা সভাপতির নির্বাচন হওয়ার কথা। এই সিদ্ধান্তের পর ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ওপেন নিউজ ৭১