প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 29, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 14, 2026 ইং
এমসি কলেজে তরুণী ধর্ষণ: একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন

সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) ও অর্জুন লস্কর।
অন্যদিকে যথেষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় আইনুদ্দিন (আইনুল), মিসবাউল ইসলাম (রাজন), রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে খালাস দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্তদের সবাই বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছিলেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত চারজনসহ আট আসামিই আদালতে হাজির ছিলেন। মামলাটি ঘিরে সকাল থেকে আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি আদালতে প্রবেশের সময় তল্লাশিও জোরদার করা হয়।
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে। ঘটনার রাতেই ওই তরুণীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ও দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।
তদন্তে আরও দুজনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলে মোট আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।
২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
গত বছর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ গঠন করে আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দেন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। পরে দুটি মামলার বিচারকাজ একই আদালতে করার নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করে বাদীপক্ষ।
মামলাটি নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে গত বছরের মে মাসে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক, ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আজ মামলাটির রায় ঘোষণা করল।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ওপেন নিউজ ৭১