প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 29, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 12, 2026 ইং
সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনা

মানুয়েল আকাঞ্জি ও দেনিস জাকারিয়াদের নিয়ে গড়া সুইসদের ডিফেন্স যে চিড় ধরাতে হ্যাপা পোহাতে হবে সেটা আঁচ করা গিয়েছিল আগেই। তা না হয় লিওনেল মেসি- হুলিয়ান আলভারেজের চেষ্টা কম ছিল? শত আঘাতেও অক্ষত ছিল ইস্পাত-লৌহ সেই ডিফেন্স। যা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের জয়ের জন্য অপেক্ষায় রাখে ১২০তম মিনিট পর্যন্ত। যদিও এর আগে ১১২তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজ ২-১ লিড এনে দিয়েছিলেন আর্জেন্টিনাকে।
রোববার কনসাস স্টেডিয়ামের ৯০ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ ছিল ১-১ গোলের ড্র। এর মধ্যে নাটক আর বাঁক বদল। তবে লাউতারো মার্টিনেজ সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেন। ১২০তম মিনিটে চমৎকার ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনাকে ৩-১ গোলের জয় উপহার দেন লাউতারো মার্তিনেজ। তাতেই শেষ চার নিশ্চিত হয়ে যায় লিওনেল স্কালোনির দল। সেমিতে আলবেসেলেস্তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। ১৫ জুলাই আটালান্টা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দল দুটি।
ম্যাচের প্রথম অর্ধে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় আনে সুইজারল্যান্ড। এরপর অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ম্যাচ। ১১২ ও ১২০তম মিনিটে গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ।
এদিন ম্যাচের দশম মিনিটেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে দেন আলিক্সেস ম্যাক অ্যালিস্তার। এরপর ৩২তম মিনিটে খানিকটা সম্ভাবনা জাগায় সুইসরা। বাম পাশ থেকে দারুণ একটি থ্রু বল বাড়ান দান এনদোয়ে। লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে এগিয়ে বল নিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন এমবোলো। বিপদ বুঝে দ্রুত এগিয়ে এসে দারুণ চ্যালেঞ্জে দলকে উদ্ধার করেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তাতে প্রথমার্ধে ১-০ তে এগিয়ে স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৫তম মিনিটে এমবোলোর হেড বাম দিকে ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন এমি মার্তিনেজ। পরের মিনিটেই বক্সের বেশ বাইরে থেকে গ্রানিত জাকার জোরাল শট আবার ডাইভ দিয়ে ঠেকান আর্জেন্টাইন গোলকিপার। এর দুই মিনিট পরই সমতায় ফেরে সুইসরা। রিকার্দো রদ্রিগেজের সঙ্গে দারুণভাবে ওয়ান-টু খেলে চমৎকার ফিনিশিংয়ে জাল কাঁপান এনদোয়ে।
এরপরই ডাইভ দিয়ে লাল কার্ড দেখেন এমবোলো। ফাউলের জন্য শুরুতে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। তবে পরে ভিএআর রেফারির হস্তক্ষেপের পর মাঠের পাশের স্ক্রিনে রিপ্লে দেখে রেফারি সিদ্ধান্তে পৌঁছান, ইচ্ছে করেই ডাইভ দিয়েছেন এমবোলো। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয় ২৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডকে। কান্না করতে করতে মাঠ ছাড়তে দেখা যায় তাকে।
যোগ করা সময়ের ৯ মিনিটের শেষ দিকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজেরর অ্যাক্রোবেটিক শট ফুল লেংথ ডাইভ দিয়ে ঠেকিয়ে দেন সুইস গোলকিপার গ্রেগর কোবেল। এই সময়েও কোন ফল আসাতে ম্যাচ যায় অতিরিক্ত সময়ে। যেখানে ১১২তম মিনিটে ডি বক্সের বাইর থেকে কার্লিং শটে লিড এনে দেন আলভারেজ। আর ১২০তম মিনিটে সুইজারল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন লাউতারো মার্টিনেজ।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ওপেন নিউজ ৭১