প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 31, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 23, 2026 ইং
রোনালদোর জোড়ায় বড় জয়ে ঘুরে দাঁড়াল পর্তুগাল

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ইতিহাস গড়লেন। প্রথম খেলোয়াড় হিসেব ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করলেন এবং বিশ্বমঞ্চে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন। হিউস্টনে তার ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো হাজারো পর্তুগাল ভক্ত-সমর্থকরা। প্রথমার্ধে জোড়া গোল করার পর রোনালদোর হ্যাটট্রিকের প্রত্যাশায় ছিলেন তারা। সিআরসেভেন বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক পাননি। তবে বড় জয় পেয়েছে পর্তুগাল। উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নকআউটে ওঠার পথে বড় ধাপ ফেলল তারা।
মঙ্গলবার হিউস্টনে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার ম্যাচে পুরো সময় জুড়েই ছিল ‘রোনালদো শো’। গোটা দুয়েক সুযোগ হাতছাড়া করলেও যতক্ষণ মাঠে ছিলেন, মাতিয়ে রেখেছেন পুরো স্টেডিয়াম। সেই সঙ্গে স্পর্শ করেছেন নতুন মাইলফলক। উজবেকদের জালে প্রথম বল জড়িয়ে বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে টানা ৬টি বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েন তিনি। আর দ্বিতীয় গোলটি করার মাধ্যমে ছাড়িয়ে যান স্বদেশি কিংবদন্তি ইউসেবিওকে। বিশ্বকাপে রোনালদোর গোল সংখ্যা এখন ১০টি, আর আন্তর্জাতিক ফুটবলে পর্তুগালের জার্সিতে এটি তাঁর ১৪৫তম গোল।
হিউস্টনে রোনালদোর প্রথম গোলটি আসে ষষ্ঠ মিনিটে, দ্বিতীয়টি ৩৯তম মিনিটে। রাইট-ব্যাক পজিশন থেকে জোয়াও কানসেলোর দুর্দান্ত গতিতে বল নিয়ে ওপরে উঠে এসে রোনালদোর উদ্দেশ্যে বাড়িয়ে দেন। সেই ক্রসের সূত্র ধরে নিখুঁত টাইমিংয়ে নিয়ার-পোস্টে ছুটে যান সিআরসেভেন। দারুণ এক সাইড-ফুটে গোলরক্ষক আবদুভোখিদ নেমাতভকে পরাস্ত করেন তিনি।
রোনালদোর দ্বিতীয় গোলটি ছিল এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে। চমৎকার এক থ্রু-বল বাড়িয়ে দেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। ডি-বক্সের ডান প্রান্ত থেকে বল পেয়ে নিখুঁত শটে পোস্টের বাঁ কোণ দিয়ে বল জালে জড়ান রোনালদো।
এই গোলের মধ্য দিয়ে কিংবদন্তি ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে ফিফা বিশ্বকাপ ইতিহাসে পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের (১০ গোল) নতুন রেকর্ড গড়লেন রোনালদো। ১৯৬৫-১৯৬৬ সালের পর থেকে তিনিই এখন বিশ্বকাপের মঞ্চে পর্তুগিজদের পক্ষে সর্বোচ্চ গোলদাতা।
এর আগে ১৭তম মিনিটে সেটপিস থেকে গোল করে দলের লিড দ্বিগুণ করেন নুনো মেন্দেস। এখানে দারুণ একটা চাল চালে পর্তুগাল। সবাই ধরেই নিয়েছিল ফ্রি-কিক থেকে রোনালদোই শট নেবেন, আর সেই অনুযায়ী উজবেকিস্তানও তাদের পোস্টের বাঁ দিকটা সুরক্ষিত রাখতে দেয়াল তুলেছিল। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে শটটি নেন মেন্দেস। তার বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে চমৎকারভাবে বল জালে জড়ায় এবং পরাস্ত হন উজবেক গোলরক্ষক।
বিরতির পর আরও আগ্রাসী হয়ে পড়ে পর্তুগাল। এই অর্ধে তারা আরও দুটি গোল আদায় করে। ৬০তম মিনিটে ব্রুনোর চিপশট থেকে নাগালেনই বল পেয়ে যান রোনালদো। শটও নিয়েছিলেন তিনি। বিধি বাম। বলটি উজবেক গোলকিপারের গায়ে লেগে নসাৎ হয়ে যায়। হ্যাটট্রিকের অপেক্ষা বাড়ে রোনালদোর। এসময় উল্টো পান সিআরসেভেন।
তবে এই প্রচেষ্টা যে একেবারেই বৃথা গেছে তা বলা যাবে না। কারণ নেমাতভের গায়ে লেগে বল বাইরে গড়াতো কর্ণার যায় পর্তুগালের পক্ষে। কর্নার কিক নেন ফার্নান্দেজ। তার নেওয়া নিচু ক্রসটিতে চমৎকার এক ফ্লিক করেন জোয়াও ফেলিক্স। যা হুসানভের গায়ে লেগে গোলকিপার নেমাতভের হাত ছুঁয়ে বল লাইনের ভেতরে চলে যায়। আর তাতেই স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০। ম্যাচের সারমর্ম ততক্ষণে লেখা হয়ে যায়।
৮৭তম মিনিটে ভিতিনহার বদলি হিসেবে নেমে গোলখাতায় নাম লেখান রাফায়েল লিও। ডান প্রান্ত দিয়ে সেমেদো বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে রোনালদোর উদ্দেশ্যে পাস বাড়িয়েছিলেন। তবে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে বলটি সুবিধাজনকভাবে চলে আসে লিওর পায়ে। চমৎকার পজিশনে বল পেয়ে জোরালো শটে পোস্টের ওপরের বাঁ কোণ দিয়ে জাল কাঁপান তিনি। এই গোলের পর উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। আর এই ব্যবধানেই শেষ হয় ম্যাচ।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ওপেন নিউজ ৭১